সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

ক্রিমিয়ায় রুশ বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ আরোহী নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯ বার
ক্রিমিয়ায় রুশ বিমান দুর্ঘটনা ২৯ নিহত

প্রকাশঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে একটি এএন-২৬ মডেলের রাশিয়ান সেনা বিমান, যাতে থাকা ২৯ আরোহীসহ বিমানটির ছয় ক্রুসদস্য সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে, এবং খবরটি দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার শুরু করেন।

রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, এই বিমানটি রুটিন সামরিক মহড়ার জন্য উড়েছিল। রুটে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর জানা যায়, বিমানটি ক্রিমিয়ার কাছে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়।

এই দুর্ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তত্ত্ব আলোচনা শুরু করেছেন। ইউক্রেনের কোনও হামলার শিকার হয়েছে কি না—এ ধরনের জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে রাশিয়ান সেনাবাহিনী দ্রুত এই অনুমান উড়িয়ে দিয়েছে এবং বলেছে, এটি শুধুমাত্র দুর্ঘটনাজনিত প্রাকৃতিক ও যান্ত্রিক ত্রুটির ফল।

এএন-২৬ মডেলের বিমানটি সোভিয়েত যুগে তৈরি এবং মূলত সামরিক সরঞ্জাম এক স্থানে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে সামরিক মালামাল বহন করতে সক্ষম এবং সীমিত সংখ্যক যাত্রী বহনের জন্য ব্যবহার করা হয়। সামরিক বিমান হিসেবে এটিকে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী এখনও ব্যবহার করে আসছে।

এই মডেলের বিমান ইতিমধ্যেই ইতিহাসে বহুবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ২০২০ সালে ইউক্রেনের খারকিভে এ ধরনের একটি বিমান ২৮ আরোহীসহ বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই ঘটনায় কেউ বেঁচে ছিলেন না। ২০২২ সালে আরও একটি দুর্ঘটনায় বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল, যার ফলাফল ভয়াবহ ছিল। এ ধরনের দুর্ঘটনার কারণে এএন-২৬ বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোভিয়েত যুগের প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিমানগুলির বর্তমান পরিস্থিতি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের অভাব দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে।

রাশিয়ার এই দুর্ঘটনার সঙ্গে ক্রিমিয়ার ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যও যুক্ত। পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন, পাহাড়ি ঢেউ এবং দৃষ্টিশক্তি সীমিত হওয়ার কারণে বিমান চলাচলে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকার্য জটিল হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ ও বিমানের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হচ্ছে, এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকল আরোহীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। আহত বা বেঁচে যাওয়ার কোনও খবর না থাকায় পুরো দেশ শোকাচ্ছন্ন। বিমান বিধ্বস্ত হওয়া ঘটনা সামরিক মহড়া চলাকালীন ঘটায় সামরিক নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতির ওপরও নতুনভাবে মনোযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সামরিক বিমান দুর্ঘটনার প্রভাব কেবল আঞ্চলিক নয়, এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ ও ক্রিমিয়ার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এমন দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনার পুনর্মূল্যায়ন ঘটাতে পারে।

এদিকে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর রাশিয়ার মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা মরদেহ শনাক্তকরণের কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ চূড়ান্তভাবে বোঝার জন্য ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। বিমানের ল্যাগ-রেকর্ড, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বিমান পরিচালনার ত্রুটির ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

সমীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা সামরিক ইতিহাসে অতি গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি শোক এবং সতর্কবার্তা হিসাবে গণ্য করা হয়, যা ভবিষ্যতে বিমান ও সামরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রণোদনা জোগাবে। রাশিয়ার সামরিক বিমান বাহিনী এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।

এই দুর্ঘটনার পর ক্রিমিয়ার স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ সমন্বয় তৈরি হয়েছে। তারা দুর্ঘটনার সাথে যুক্ত সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত