সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত অন্তত একজন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৩ বার
ইন্দোনেশিয়া ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইন্দোনেশিয়ার তেরনাত শহরের উপকূলে বৃহস্পতিবার ভোরে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত একজন নিহত এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অল্প সময়ের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও তা দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে তেরনাত শহরের উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) গভীরে অবস্থিত। এতে তেরনাত ও আশেপাশের শহরগুলোতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হঠাৎ এবং শক্তিশালী ভূমিকম্প কখনোই পূর্বাভাস করা সম্ভব নয়, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি প্রায়শই সীমিত রাখে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে তেরনাতের উপকূলীয় এলাকায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানায়। মানাডো শহরে ধ্বংসস্তূপে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শহরের ভবন ও বসত ঘরগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেট্রো টিভি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি সম্প্রচার করেছে, যা প্রমাণ করছে ভূমিকম্পের প্রভাব কতটা মারাত্মক। ভূমিকম্পের সময় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে সড়কে নেমে আসেন। অনেকেরই ঘরবাড়ি অস্থায়ীভাবে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তেরনাত ও টিডোরের মতো শহরের প্রশাসন সতর্কতার অংশ হিসেবে জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরানোর জন্য নির্দেশনা জারি করেছে।

স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের মতে, “হাম বজ্রপাতের মতো হঠাৎ করে এসেছে, আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানোর চেষ্টা করছি।” উদ্ধার কার্যক্রম চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া ভূ-তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি বারবার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির কবলে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমধ্যসাগরীয় ও প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ারের অংশ হওয়ায় এই অঞ্চলে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা সর্বদা থাকে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধার দলগুলো নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে হঠাৎ এই মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা কঠিন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেকর্ড সময়ের মধ্যে তারা আতঙ্কিত হয়ে সড়কে নেমে এসেছেন। কেউ কেউ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে এখনই বাস করা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জরুরি সহায়তা ও আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি নির্ভর করছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প ও সুনামি প্রস্তুতি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের পর অল্প সময়ের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে প্রশাসন দ্রুত জনসাধারণকে সচেতন ও নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে, ভূমিকম্পের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এমন যে, তা সম্পূর্ণভাবে পূর্বাভাস করা সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তেরনাতের ভূমিকম্পে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জনসাধারণকে প্রস্তুত রাখার জন্য সতর্কতা এবং জরুরি অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ইতিমধ্যেই ত্রাণ সামগ্রী পাঠাতে শুরু করেছে।

এই ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। হঠাৎ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য জনসাধারণ এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় ও প্রস্তুতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ও জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়শই ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, এবং এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়শই সুনামির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল এবং গভীরতা এ ধরনের ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত