নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজে কোরআনের তেলাওয়াত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৯ বার
নামাজে নবীজি সূরা পাঠ

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যা বেহেশতের চাবি হিসেবে বিবেচিত। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য দিনে পাঁচ বেলা ফরজ নামাজ আদায় করা অত্যাবশ্যক। এই ফরজ নামাজের সঙ্গে সুন্নত, ওয়াজিব ও নফল নামাজও রয়েছে, যা মুসলমানদের ইবাদত ও তাওবা আরও সমৃদ্ধ করে। নামাজের সময় পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত ফরজ এবং ফাতিহা সূরার সঙ্গে অন্যান্য কোনো সূরা মিলিয়ে পড়া ওয়াজিব। ইসলামী শরিয়তে পবিত্র কোরআনের যেকোনো অংশ থেকে তেলাওয়াত করলে নামাজ ফরজ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে কোরআন পাঠের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সূরা নিয়মিত পাঠ করতেন। সফর অবস্থায় তিনি ফাতিহার পর কোনো সূরাও পড়তে পারতেন। তবে স্থির অবস্থায় নামাজে সূরা বাছাইয়ে কিছু সুন্নত অনুসরণ করতেন। ফজর ও জোহরের নামাজে সাধারণত সুরা হুজুরাত (৪৯ নম্বর) থেকে সুরা বুরুজ (৮৫ নম্বর) পর্যন্ত যেকোনো সূরা পাঠ করতেন। আসর ও এশার নামাজে তিনি সুরা তারিক (৮৬ নম্বর) থেকে সুরা বায়্যিনাহ (৯৮ নম্বর) পর্যন্ত সূরা পাঠের প্রচলন রাখতেন। মাগরিবের নামাজে সুরা জিলজাল (৯৯ নম্বর) থেকে সুরা নাস (১১৪ নম্বর) পর্যন্ত সূরা পড়ার অভ্যাস ছিল।

সুন্নত নামাজের ক্ষেত্রে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন (১০৯ নম্বর) এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস (১১২ নম্বর) পাঠ করতেন। বিতর নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা দুহা (৯৩ নম্বর), দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন (১০৯ নম্বর) এবং তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস (১১২ নম্বর) পাঠ করা সুন্নত। জুমার দিনের ফজরের নামাজে তিনি প্রায়ই সুরা আস-সাজদা (৩২ নম্বর) ও সুরা দাহর (৭৬ নম্বর) পাঠ করতেন। জুমার নামাজে আরেকটি সুন্নত ছিল সুরা আলা (৮৭ নম্বর) ও সুরা গাশিয়াহ (৮৮ নম্বর) অথবা সুরা জুমা (৬২ নম্বর) ও সুরা মুনাফিকুন (৬৩ নম্বর) পাঠ করা।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফরজ নামাজের প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় রাকাত অপেক্ষা দীর্ঘ কিরাত পড়ার প্রবণতা ছিল। বিশেষত ফজর নামাজে তিনি অন্য নামাজের তুলনায় দীর্ঘ কিরাত পড়তেন। তবে ইসলামি শরিয়তে প্রতিটি মুসলমানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সূরা নির্ধারণ করা নেই। ব্যক্তি ইচ্ছামত পবিত্র কোরআন থেকে সূরা বেছে নিয়ে পাঠ করতে পারেন।

নবীজির এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য ছিল নামাজকে সহজ ও হৃদয়ঙ্গম করা। পাশাপাশি এটি নবীদের সুন্নত অনুসরণে নবজাতক মুসলমানদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। নামাজে কোরআনের তেলাওয়াত শুধু ফরজ আদায় নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

নামাজের সময় সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ হলেও তার সঙ্গে অন্য সূরা মিলিয়ে পড়া ওয়াজিব। এটি মুসলমানদের নামাজে মনোযোগ, শৃঙ্খলা ও কোরআনের প্রতি আধ্যাত্মিক সংযোগ বাড়ায়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজের পদ্ধতি অনুসরণ করে মুসলমানরা নিজের নামাজকে আরও সমৃদ্ধ ও সুচারু করতে পারেন।

নবীজির এই সুন্নত অনুসরণ করার মাধ্যমে প্রতিটি মুসলমান তাঁর নামাজে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতকে নিয়মিত করতে পারেন এবং ইবাদতকে হৃদয়ঙ্গম ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারেন। নামাজ কেবল ফরজ পালন নয়, এটি মুসলিম সমাজে সংহতি ও নৈতিকতার চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত