প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই শান্তি ও ঐক্যের বার্তা এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে নিজের মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি চুক্তি নিয়ে সুখবর শীঘ্রই আসতে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রদায়গুলোর নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না, এবং দেশব্যাপী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমতা ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “দেশের পাহাড়ি বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমাদের লক্ষ্য হলো সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।”
এবারের নববর্ষ উদযাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানান, এবার পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নাম ও ঐতিহ্য অনুসারে উৎসব উদযাপন করবেন। ‘বৈসাবি’ নামটি বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ এতে শুধু তিনটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব ছিল। নতুনভাবে তিনটি পার্বত্য জেলায় মোট ১১টি সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরবে। এই উৎসবগুলো বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান নামে পালিত হবে, এবং ১২ এপ্রিল থেকে সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন শুরু হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নববর্ষ উদযাপন শুরু হবে সকাল থেকে র্যালির মাধ্যমে। এছাড়া রমনা পার্কের লেকের জলে ফুল ভাসানো হবে, যা পাহাড় অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানাবে। তিনি জানান, উৎসবকে সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হবে এবং এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য ও শান্তি বাড়াবে।
দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ নিয়ে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। মন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে স্থানীয় জনগণ আশা করছেন যে, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ নিরাপদ ও সম্মিলিতভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও জানান, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এতে করে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নত হবে এবং অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে।
স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে এটি শুধু এলাকায় নয়, সমগ্র দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলকে পর্যটন, শিক্ষা এবং অর্থনীতির দিক থেকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা নতুন আশা জাগিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ, পাহাড়ি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা, এবং নতুনভাবে নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা—all মিলিয়ে এটি একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ আশা করছে, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম স্থায়ী শান্তি ও বিকাশের পথে অগ্রসর হবে, যা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।