ভার্চুয়াল কোর্টে সংকট নেই, বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
ভার্চুয়াল কোর্টে সংকট নেই, বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রকাশ:  ২২ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় কোনো ধরনের সংকট দেখা যায়নি। বরং এই ব্যবস্থার ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে বলে তিনি মনে করেন। বুধবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় ভার্চুয়াল কোর্ট একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এতে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, বিচারপ্রার্থীদের সময় ও ব্যয়ও কমছে। আদালতে উপস্থিত না হয়েও মামলার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। বিশ্বের অনেক দেশেই ভার্চুয়াল আদালত চালু রয়েছে এবং সেখানে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও এই পদ্ধতি ধীরে ধীরে কার্যকর হয়ে উঠছে এবং এটি ভবিষ্যতের বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উভয় বিভাগে বিচারকাজ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তবে ভার্চুয়াল কোর্টের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনজীবীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুনানি পরিচালনা করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয় এবং এতে মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সঠিকভাবে শুনানি পরিচালনা করা যায় না। তাছাড়া সব পক্ষের সমানভাবে ভার্চুয়াল সুবিধা পাওয়াও নিশ্চিত করা কঠিন। ফলে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা।

এ ছাড়া তারা আরও বলেন, আদালত ভার্চুয়াল হলেও আইনজীবীদের অনেক সময় শারীরিকভাবে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। এতে করে জ্বালানি সাশ্রয়ের যে উদ্দেশ্য দেখানো হচ্ছে, তা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। তারা দাবি করেন, আদালতের এজলাসে কার্যক্রম না থাকলেও সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহার অব্যাহত থাকছে, যা সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ আইনজীবীরা আন্দোলনের পথও বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তারা মানববন্ধন করেন এবং দাবি আদায় না হলে পতাকা মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। তাদের বক্তব্য, বিচারপ্রক্রিয়া এমন একটি সংবেদনশীল বিষয় যেখানে সরাসরি উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ করে ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া ঠিক নয়।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল এই সমালোচনার জবাবে বলেন, যেকোনো নতুন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে শুরুতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতেই পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে ভার্চুয়াল কোর্ট আরও কার্যকর হয়ে উঠবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থার সুফল যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যগ্রহণ বা জেরা প্রক্রিয়ায় সরাসরি উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সব ধরনের মামলার জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

অন্যদিকে দেওয়ানি ও প্রশাসনিক মামলার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল পদ্ধতি অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এতে সময় বাঁচে, খরচ কমে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পেতে পারেন। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী ভার্চুয়াল ও সরাসরি আদালত পরিচালনার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোরও একটি প্রয়াস দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে আইনজীবীদের একটি অংশ বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এর সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন। ভবিষ্যতে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা হবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত