মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
মেহেরপুর শিশু নদীতে মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে আব্রাহাম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে চর গোয়াল গ্রামের নদীর তীরে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আকাশ আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীঘেঁষা এলাকায় বসবাসের কারণে প্রতিদিনের মতোই সকালে বাড়ির আঙিনায় খেলছিল ছোট্ট আব্রাহাম। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছু সময়ের জন্য সবার অগোচরে সে বাড়ির পাশের মাথাভাঙ্গা নদীর দিকে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত পা পিছলে সে নদীর পানিতে পড়ে যায়।

ঘটনার পরপরই কিছুক্ষণের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন নদীর পানিতে একটি শিশুর দেহ ভাসতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাদের ডাকে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। দ্রুত পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয় এবং শিশুটিকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু ঘটে বলে নিশ্চিত করেন স্থানীয়রা।

শিশুটির মৃত্যুতে পুরো চর গোয়াল গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও শিশুটির কোলাহল ও হাসি শোনা যাচ্ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার শব্দ। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে প্রবাসী বাবার অনুপস্থিতিতে সন্তানের এমন মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙে পড়েছে বলে জানান প্রতিবেশীরা।

স্থানীয়রা জানান, মাথাভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী এই এলাকায় প্রায়ই ছোট শিশুদের খেলতে দেখা যায়। তবে নদীর কাছাকাছি নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। অনেকেই মনে করছেন, যদি নদীর পাড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত।

ঘটনার খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

শিশু মৃত্যুর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদীর ধারে বসবাসকারী পরিবারগুলো বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নদীর পাড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রামীণ অঞ্চলে নদী ও জলাশয়ের পাশে শিশুদের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা নিহত শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে এক নিষ্পাপ প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

মেহেরপুরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নদী বা জলাশয়ঘেঁষা এলাকায়। সামান্য অসতর্কতা যে কত বড় ট্র্যাজেডির জন্ম দিতে পারে, তারই এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল আব্রাহামের মৃত্যু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত