চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে চরম অচলাবস্থায়। এর জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় চলাচলকারী সব ধরনের বাস চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যাত্রীরাও।

শুক্রবার সকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এবং জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে কোনো বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। টার্মিনালে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলোতে যাত্রী না ওঠায় পুরো পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। সকাল থেকেই যাত্রীরা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে বিকল্প পরিবহনের সন্ধানে ছুটোছুটি করলেও স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি।

পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশের আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেলায় চলাচলকারী বাস থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুইটি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষের দাবি, শ্রমিকদের কল্যাণে পূর্বে যৌথভাবে নির্ধারিত নিয়মে চাঁদা আদায় করা হলেও সম্প্রতি আরেকটি পক্ষ আলাদাভাবে এবং এককভাবে চাঁদা আদায় শুরু করে, যা নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়।

এই বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। দুই সংগঠনের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় শ্রমিকদের একটি অংশ।

ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যৌথভাবে শ্রমিকদের কল্যাণে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চাঁদা আদায় চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নামে শহরের হরিপুর এলাকায় আলাদাভাবে চাঁদা আদায় শুরু করা হয়, যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। তাদের দাবি, টার্মিনালের বাইরে সড়কে এভাবে চাঁদা আদায় করার কোনো বৈধ এখতিয়ার নেই।

অন্যদিকে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা নিয়ম মেনেই নির্ধারিত হারে বাস থেকে চাঁদা সংগ্রহ করছে। তাদের অভিযোগ, অপর পক্ষ ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি বাস থেকেও অবৈধভাবে চাঁদা নিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যান। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

হঠাৎ এই পরিবহন সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দূরপাল্লার যাত্রীরা আগেভাগে টিকিট কেটে রেখেও গন্তব্যে যেতে পারেননি। অনেক শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগী সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পরিবহন সেক্টরে চলমান এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে জেলার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং জরুরি সেবাসহ সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হোক, যাতে ভোগান্তি থেকে রক্ষা পান তারা। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত