নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা ফেরাতে হাইকোর্টে রিট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে প্রার্থিতা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন।

সোমবার বিকেলে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং আইনজীবী মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে ২২ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর। এই বিলম্বকে নিয়মবহির্ভূত বিবেচনা করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর আগে একই দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতাও স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। ফলে এনসিপির দুই নারী নেত্রীর নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে দলটির মধ্যে অসন্তোষ ও আলোচনা তৈরি হয়।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এখন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তার আইনজীবীরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়সীমার কিছুটা বিলম্ব হলেও প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ না করলে পুরো ব্যবস্থাই ব্যাহত হতে পারে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের পক্ষে মত দিচ্ছেন, অন্যদিকে অনেকে বলছেন, এত অল্প সময়ের বিলম্বের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া অতিরিক্ত কঠোর সিদ্ধান্ত হতে পারে।

নুসরাত তাবাসসুমের রিটের শুনানিকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের। অনেকেই মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে নির্বাচনী মনোনয়ন সংক্রান্ত নিয়ম ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা একটি বাধ্যতামূলক শর্ত হলেও, কিছু ক্ষেত্রে মানবিক ও বাস্তব দিক বিবেচনার সুযোগ রয়েছে কি না, তা আদালতের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে। ফলে এই রিট মামলার ফলাফল শুধু একজন প্রার্থীর নয়, ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না এলেও দলটির ভেতরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দলটির সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কৌশলের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লড়াই এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। হাইকোর্টের রায়ই নির্ধারণ করবে তিনি নির্বাচনী মাঠে ফিরতে পারবেন কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত