প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা Vijay–এর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় উত্থানের পর সরকার গঠনের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেও এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি তার দল। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পিছিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত বিজয়ের দল Tamilaga Vettri Kazhagam বা টিভিকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে চমক দেখিয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় রাজ্যপাল আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের অনুমতি দেননি বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল Rajendra Vishwanath Arlekar এখনও নিশ্চিত নন যে বিজয়ের দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছে কি না। এই কারণেই শপথ অনুষ্ঠান পিছিয়ে গেছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সরকার গঠনের জন্য দরকারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে টিভিকেকে আরও কয়েকজন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর রাজনীতি যেন নতুন এক নাটকীয় মোড়ে দাঁড়িয়ে। নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে নতুন হলেও বিজয়ের জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সিনেমাপ্রেমীদের বড় অংশ তার পক্ষে অবস্থান নেয়। সেই জনপ্রিয়তার জোরেই দলটি ১০৮টি আসন জিতে রাজ্যের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসে।
তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কংগ্রেস ইতোমধ্যেই বিজয়ের দলকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কংগ্রেসের পাঁচটি আসন যুক্ত হওয়ার পর টিভিকের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১২-তে। যদিও বিজয়ের জেতা দুটি আসনের মধ্যে একটি বাদ পড়ায় হিসাব কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে এখনও ছয়টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্দলীয় প্রার্থী কিংবা ছোট দলগুলোর সমর্থনই সরকার গঠনের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। বর্তমানে টিভিকে সেই সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কারা বিজয়ের পক্ষে যোগ দিচ্ছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বুধবার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। সেখানে তিনি পরবর্তী সরকার গঠনের দাবি জানান। বৈঠকের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা আরও বেড়ে যায়। তবে রাজ্যপালের দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সূত্র বলছে, টিভিকের সাধারণ সম্পাদক Aadhav Arjunaও আইনি দলকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে সেখানে।
ভারতের রাজ্য রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। অনেক সময় নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হয়েও প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবে সরকার গঠন জটিল হয়ে পড়ে। তখন জোট, সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করতে হয়। তামিলনাড়ুতেও এখন ঠিক সেই বাস্তবতাই দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা। কারণ বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়লাভ করতে না পারলে সরকার গঠন টেকসই হবে না। ফলে রাজ্যপালও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত সমর্থনের নিশ্চয়তা চাইছেন।
এদিকে শপথ পিছিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজয়ের সমর্থকরা এটিকে সাময়িক রাজনৈতিক জটিলতা হিসেবে দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে পারবেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, জনপ্রিয়তা আর প্রশাসনিক বাস্তবতা এক জিনিস নয়; সরকার পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থানকে ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতি মূলত কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী দলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সেখানে চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে পরিচিত একজন নতুন নেতার এমন সাফল্য দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ভারতে সিনেমা ও রাজনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অতীতে M. G. Ramachandran, J. Jayalalithaa এবং M. Karunanidhi–এর মতো নেতারাও চলচ্চিত্রজগত থেকে রাজনীতিতে এসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রাকেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন পুরো নজর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক দরকষাকষির দিকে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে বিজয় শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারেন কি না। যদি তা সম্ভব হয়, তবে অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে আরেকটি বড় অধ্যায় রচিত হবে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে।