জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
শিক্ষা খাতে জিডিপি বিনিয়োগ

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগকে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত “শ্রেণিকক্ষে উদ্ভাবনী ধারা শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার এবং ভবিষ্যৎ দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগ না হওয়ায় কাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অতীতের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির দেড় শতাংশের বেশি হয়নি। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিই হবে এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য।

সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নকে ভিত্তি হিসেবে ধরে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল ক্লাসরুম চালু এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারে সরকার কাজ করছে। তিনি স্বীকার করেন, অতীতে ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

এহসানুল হক মিলন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হবে। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ধারণা কেবল শহরকেন্দ্রিক না রেখে গ্রামীণ পর্যায়েও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে শহর ও গ্রামের শিক্ষার মধ্যে ব্যবধান কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইউনিসেফের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত দেন। তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শেখার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকের প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর তারা জোর দেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বিনিয়োগ বৃদ্ধি নয়, সেই বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার ওপর সরকার কাজ করছে। তিনি মনে করেন, দক্ষ ও প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী তৈরি করতে না পারলে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্প-শিক্ষা সংযোগ জোরদারের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তারা একইসঙ্গে এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, বরং নীতি বাস্তবায়নের দক্ষতাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

সেমিনারের আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল কনটেন্ট উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবমুখী শিক্ষা দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে কেবল একটি সামাজিক খাত হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাই এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের রূপান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে নীতিগত ধারাবাহিকতা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত