লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪, উত্তেজনা বাড়ছে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৪৭ বার
লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলের হামলা

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক শহরে আবারও বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। নতুন এই হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলার পর পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হারত হরিক ও সাকসাকিয়ে এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিক বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, এই হামলা মূলত হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের এক শীর্ষ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ওই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় শুধু সামরিক লক্ষ্য নয়, বরং বেসামরিক এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, হামলায় সাধারণ মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত কিছু অস্ত্রের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফসফরাস শেল ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে ইয়োহমোর আল-শাকিক এলাকায়। যদিও ইসরাইল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

হামলার পরপরই ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা রকেট হামলা শুরু করে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা ইসরাইলি সামরিক যান, বুলডোজার এবং বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ।

হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের অবস্থানকে লক্ষ্য করে নিয়মিত রকেট হামলা অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা কেবলমাত্র ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে।

এদিকে চলমান সংঘর্ষ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করছে। তাদের মতে, হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে লেবানন ও গাজায় একযোগে সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। গাজার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক হামলায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস-এর একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে।

গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবানন ও গাজায় একসঙ্গে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরণমুখী করে তুলছে। তারা মনে করছেন, সামান্য উসকানিতেই পরিস্থিতি বড় আকারের যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।

স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শহর ছেড়ে যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে, চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, চলমান হামলায় শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।

সব মিলিয়ে লেবাননে ইসরাইলি হামলা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত করে তুলেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ না বাড়লে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com