মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলায় ওয়ার্নার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সিডনিতে পুলিশের পরীক্ষায় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘিরে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনসহ ক্রীড়া মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৫ এপ্রিল, সিডনির পূর্বাঞ্চলে। ওই সময় নিয়মিত টহলরত পুলিশ ওয়ার্নারের গাড়ি থামিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষায় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.১০৪ পাওয়া যায়, যা নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের আইন অনুযায়ী মাঝারি পর্যায়ের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তবে চলতি সপ্তাহে নির্ধারিত শুনানিতে ডেভিড ওয়ার্নার ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হননি। আদালত সূত্র জানিয়েছে, তার অনুপস্থিতিতে পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৪ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া মহলে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেটারের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। ডেভিড ওয়ার্নার দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং তার আগ্রাসী ব্যাটিং স্টাইল তাকে বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ওয়ার্নারের আইনজীবী ববি হিল জানান, তার মক্কেল ইতোমধ্যেই নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় দোষ স্বীকার করে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ার্নার বুঝতে পেরেছেন এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং তিনি চাইলে উবার বা অন্য কোনো বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে পারতেন, যা না করে গাড়ি চালানো ছিল তার ভুল।

আইনজীবী আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক বন্ধুর বাসায় ছিলেন ওয়ার্নার এবং সেখানে তিনি তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মিনিট আগে তিনি শেষ পানীয় গ্রহণ করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে যায়নি। নিউ সাউথ ওয়েলসের আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করে গাড়ি চালানো একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিতকরণ কিংবা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী লি জারমন বলেন, নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের বিষয়ে তারা সবসময় কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ মানুষ সবাই সচেতন হবেন।

ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যারিয়ার ইতোমধ্যেই বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি ঘরোয়া লিগে সক্রিয় ছিলেন এবং বিশেষ করে বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি থান্ডারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। ফলে এই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ক্রিকেট ভক্তদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একজন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রীড়াবিদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। কেউ কেউ আবার তার অতীত অর্জন বিবেচনায় বিষয়টিকে মানবিক ভুল হিসেবে দেখছেন এবং তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।

অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলার ফলাফল নির্ভর করবে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও ওয়ার্নারের দোষ স্বীকারের ওপর। যদি তিনি দোষ স্বীকার করেন, তাহলে শাস্তি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, তবে আইন ভঙ্গের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না।

সব মিলিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ও আইন অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য শুনানির দিকে এখন সবার নজর, যেখানে এই ঘটনার চূড়ান্ত আইনি সমাধান সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত