নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়বে কত শতাংশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
নবম পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কত শতাংশ বাড়তে পারে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে নতুন পে-স্কেলে বেতন কত শতাংশ বাড়তে পারে, তা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে তিন ধাপে বেতন বৃদ্ধি করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি পে-কমিশনের পূর্ণ সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, বরং তার আংশিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, বর্তমানে সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) বেতন স্কেল ৮২৫০ টাকা। যদি ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়, তবে তা দাঁড়াবে প্রায় ১৪ হাজার টাকার মতো। ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে হবে। কিন্তু পে-কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে, যা ৬০-৭০ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতের সব পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে এবারও বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে। তার মতে, যদি সর্বনিম্ন বেসিক ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়, তবে সেটি ১০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, পে-কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। তবে দেশের বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই হার কমিয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমিত করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরো নবম পে-স্কেল এক ধাপে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধীরে ধীরে বাকি সমন্বয় করা হবে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভাতা কাঠামোও নতুনভাবে যুক্ত হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানিয়েছে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে মোট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে এই ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেতন কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং শিক্ষাসহ প্রায় ২০০টি সংগঠনের মতামত বিশ্লেষণ করে সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান, যিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিবেদন জমা দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি বর্তমানে এসব সুপারিশ যাচাই-বাছাই করছে। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নত হবে, তবে একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকারকে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ পে-কমিশনের পূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানালেও অন্যরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে। কত শতাংশ বেতন বাড়বে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ভর করছে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত