বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ডলার রেট বাংলাদেশ বাজার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতিদিনই ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক মুদ্রার অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের প্রভাব এখনো বাজারে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান, যা অন্যান্য মুদ্রার দামের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বজুড়ে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার কারণে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ও প্রবাসী আয়ের হিসাব-নিকাশ সহজ করতে নিয়মিত এই হার নির্ধারণ করা হয়, যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে প্রভাব ফেলে।

বাজারে মার্কিন ডলার সবচেয়ে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। আজ এক মার্কিন ডলার ক্রয় করা হচ্ছে ১২২ টাকা ২০ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ২০ পয়সায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্ত অবস্থান এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই মূল্যস্তরকে প্রভাবিত করছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে ডলারের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরো বাজারে আজ ক্রয় করা হচ্ছে ১৪১ টাকা ৭৮ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৪৬ টাকা ৬৬ পয়সায়। ইউরোপীয় অর্থনীতিতে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি ও সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে ইউরোর মূল্যেও কিছুটা ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ব্রিটিশ পাউন্ডের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। আজ পাউন্ড ক্রয় করা হচ্ছে ১৬৪ টাকা ৩৩ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৬৯ টাকা ৪১ পয়সায়। দীর্ঘদিন ধরেই পাউন্ড উচ্চ মূল্যের মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, যা বাংলাদেশের আমদানি খরচেও প্রভাব ফেলছে।

এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েনের দাম তুলনামূলকভাবে কম। আজ ইয়েন ক্রয় করা হচ্ছে ০.৭৭ টাকায় এবং বিক্রি হচ্ছে ০.৮০ টাকায়। একইভাবে চীনা ইউয়ান ক্রয় করা হচ্ছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৮ টাকা ২১ পয়সায়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে ইউয়ানের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম আজ ক্রয় করা হচ্ছে ৩৩ টাকা ২৬ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা ৫৫ পয়সায়। সৌদি রিয়াল ক্রয় করা হচ্ছে ৩২ টাকা ৫৬ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা ৮৬ পয়সায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই এই মুদ্রাগুলোর বিনিময় হার সরাসরি প্রবাসী আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।

অস্ট্রেলিয়ান ডলার আজ ক্রয় করা হচ্ছে ৮৭ টাকা ৯৬ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ৮৯ টাকা ৯৪ পয়সায়। সুইস ফ্রাঁ ক্রয় করা হচ্ছে ১৫৫ টাকা ৪৭ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১৫৯ টাকা ৬৫ পয়সায়। উভয় মুদ্রাই বৈশ্বিক আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা স্থিতিশীল থাকে।

ভারতীয় রুপি আজ ক্রয় করা হচ্ছে ১ টাকা ২৮ পয়সায় এবং বিক্রি হচ্ছে ১ টাকা ৩১ পয়সায়। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই মুদ্রার লেনদেন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে এই ধরনের দৈনিক পরিবর্তন মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। ডলারের শক্ত অবস্থান, আন্তর্জাতিক সুদের হার, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সব মিলিয়ে মুদ্রার বিনিময় হারে প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব। তবে আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকলে চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের ভেতরে নিত্যপণ্যের দামেও প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, শিল্প উপকরণ এবং খাদ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা, রেমিট্যান্স চ্যানেল সহজ করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ালে বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও ডলারের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের মুদ্রাবাজার যে একটি সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে, তা আজকের বিনিময় হার আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত