জ্বালানি সংকটে স্বস্তি, চট্টগ্রামে ভিড়ল তেলবাহী জাহাজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ২ বার
জ্বালানি সংকটে স্বস্তি, চট্টগ্রামে ভিড়ল তেলবাহী জাহাজ

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার মধ্যে অবশেষে দেশের জ্বালানি খাতে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বড় চালান দেশে পৌঁছানোয় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং পরিশোধন কার্যক্রমও আবার স্বাভাবিক গতি পাবে।

বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের জেটিতে তেল খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর দেশে বড় আকারের অপরিশোধিত তেলের জাহাজ পৌঁছানোয় জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে গত দুই মাস দেশে কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ আসতে পারেনি। এতে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং পরিবহন খাতের একটি বড় অংশ জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২১ এপ্রিল চীনের একটি জাহাজ এই তেল নিয়ে বাংলাদেশ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ১৫ দিনের দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে বুধবার দুপুরে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া এলাকায় পৌঁছায়।

জাহাজটি পৌঁছানোর পরপরই তেল খালাসের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ছয়টি লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে কুতুবদিয়া থেকে তেল পরিবহন করে পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি লাইটার জাহাজ একবারে প্রায় চার হাজার টন তেল বহন করতে সক্ষম। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল খালাস করা সম্ভব হবে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই পুরো চালান রিফাইনারিতে পৌঁছে পরিশোধনের কাজ শুরু করা যাবে।

তেল পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, চলতি মাসেই আরও দুটি বড় জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারে। এসব জাহাজে প্রায় আরও দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সামনের মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়। সেখানে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্ববাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশেও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পর বড় এই চালান দেশে পৌঁছানোয় শুধু জ্বালানি সরবরাহ নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিল্পকারখানার উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং পরিবহন খাতের কার্যক্রম সচল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল এবং অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদন করা হবে। এসব জ্বালানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে।

জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার খবর মানুষকে চিন্তিত করে তোলে। তবে নতুন চালান দেশে পৌঁছানোয় পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে কৃষি, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি বড় ভূমিকা পালন করে।

সরকার ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এখনো দেশের প্রধান জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভর অপরিশোধিত তেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দেশে পৌঁছানোকে বড় স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত