সর্বশেষ :

প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
ক্ষমা চাইলেন নেইমার

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার আবারও আলোচনায়। তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। সান্তোস ক্লাবের অনুশীলনে তরুণ সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। পরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। সান্তোসের অনুশীলনের সময় একটি ড্রিবল নিয়ে হাসি-ঠাট্টার পরিবেশের মধ্যেই হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুশীলনের এক পর্যায়ে তরুণ রবিনহো জুনিয়রের একটি ড্রিবল নিয়ে বিরক্ত হয়ে যান নেইমার। এরপর তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন এবং একপর্যায়ে সতীর্থের গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় দ্রুতই ক্লাবজুড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ, রবিনহো জুনিয়র শুধু সান্তোসেরই একজন উদীয়মান ফুটবলার নন, তিনি ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড রবিনহোর ছেলে। একসময় রবিনহো ও নেইমার একই সঙ্গে জাতীয় দলে খেলেছেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বও রয়েছে।

১৮ বছর বয়সি রবিনহো জুনিয়র এই ঘটনায় মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেন। বিষয়টি সামনে আসার পর সান্তোস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তবে নাটকীয়ভাবে খুব দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। মঙ্গলবার রাতে কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচে প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলেতার বিপক্ষে মাঠে নামে সান্তোস। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও দলের একমাত্র গোলটি করেন রবিনহো জুনিয়র। গোল করার পর দেখা যায়, নেইমার নিজেই ছুটে গিয়ে তরুণ সতীর্থকে জড়িয়ে ধরেছেন। দুইজনের হাসিমুখের সেই দৃশ্য মুহূর্তেই আলোচনায় আসে।

ম্যাচ শেষে নেইমার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ফুটবলে আবেগের জায়গা অনেক বড় এবং কখনও কখনও খেলোয়াড়রা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়া অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছিল।

নেইমার বলেন, “আমি অন্যভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারতাম। আমাদের দুজনেরই ভুল ছিল, তবে আমি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তা ঠিক হয়নি। আমি পুরো দলের সামনে ক্ষমা চেয়েছি এবং বিষয়টি মিটে গেছে।”

তার এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে। রবিনহো জুনিয়রও জানান, শুরুতে তিনি খুব মন খারাপ করেছিলেন। কারণ, ছোটবেলা থেকেই নেইমার তার আদর্শ ছিলেন। সেই মানুষটির কাছ থেকে এমন আচরণ তাকে কষ্ট দিয়েছিল। তবে নেইমার ভুল স্বীকার করায় এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ায় তিনি বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।

তরুণ এই ফুটবলার বলেন, “মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কিছু বলছে, যার অনেকটাই সত্য নয়। আমাদের মধ্যে যা হয়েছিল, তা এখন শেষ। নেইমার ক্ষমা চেয়েছেন এবং আমরা আবার স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে কাজ করছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবলে এমন আবেগঘন পরিস্থিতি নতুন নয়। অনুশীলন কিংবা ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়া প্রায়ই দেখা যায়। তবে একজন অভিজ্ঞ তারকার কাছ থেকে দ্রুত ভুল স্বীকার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন অনেকে।

নেইমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসাধারণ দক্ষতা ও প্রতিভার জন্য যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি আচরণগত কিছু বিতর্কেও বহুবার জড়িয়েছেন। তবে সমালোচনার মুখে নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা তার পরিণত মানসিকতারও একটি দিক তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে রবিনহো জুনিয়রের আচরণও প্রশংসিত হচ্ছে। বয়সে তরুণ হলেও পরিস্থিতি শান্তভাবে সামাল দেওয়া এবং প্রকাশ্যে বিরোধ বাড়িয়ে না তোলাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সান্তোস ক্লাবের ভেতরেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ চাইছে, মাঠের বাইরের বিতর্ক দ্রুত শেষ করে খেলোয়াড়রা যেন পুরো মনোযোগ ফুটবলে দিতে পারেন।

সব মিলিয়ে, ছোট একটি অনুশীলনঘটিত উত্তেজনা কয়েকদিনের জন্য ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত তা সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে। নেইমারের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং রবিনহো জুনিয়রের ইতিবাচক মনোভাব পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত