প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে নতুন প্রস্তুতি পর্ব শুরু করতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের মাটি ছেড়ে ব্যাংককের পথে উড়াল দেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লক্ষ্য একটাই—আন্তর্জাতিক আসরে আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।
তবে যাত্রা শুরুর এই দিনে পুরো দল একসঙ্গে যেতে পারেনি ভিসা জটিলতার কারণে। ৩২ সদস্যের স্কোয়াডের মধ্যে ৯ জন এখনো দেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে প্রস্তুতির শুরুতেই কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দলীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
দলের ম্যানেজারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই গুরুত্বপূর্ণ গোলরক্ষক মিলি আক্তার ও রুপনা চাকমা সহ কয়েকজন কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তা এখনো থাইল্যান্ডের ভিসা পাননি। এ কারণে তারা আজ দলের সঙ্গে যেতে পারেননি। তবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও থাই দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
দলীয় ব্যবস্থাপনা আশা করছে, দ্রুত ভিসা জটিলতা সমাধান হবে এবং বাকি সদস্যরা আগামীকালই ব্যাংককে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন। প্রস্তুতি ক্যাম্পের শুরু থেকেই পূর্ণ দলকে নিয়ে কাজ করতে চায় কোচিং স্টাফ।
দলের প্রধান কোচ এবং ফিটনেস কোচ বিদেশি নাগরিক হওয়ায় তাদের ভিসা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়নি। একইভাবে সুইডিশ পাসপোর্টধারী ফুটবলার আনিকাও সহজেই দলের সঙ্গে থাইল্যান্ডে যেতে পেরেছেন।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দুইবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে দলটি। এবার লক্ষ্য টানা তৃতীয় শিরোপা জয়, যা তাদের জন্য হবে নতুন এক মাইলফলক।
থাইল্যান্ডে আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প। সেখানে উচ্চমানের অনুশীলনের পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই ম্যাচগুলোকে টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে বাংলাদেশ দল সরাসরি ভারতের গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফকে আশাবাদী করে তুলেছে। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া বর্তমান স্কোয়াডকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও এবার নারী দলের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থা করেছে। বিদেশে অনুশীলন ক্যাম্প, আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে দলকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিক শক্তি। সেই জায়গায় থাইল্যান্ডের এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ব্যাংককের পথে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের যাত্রা শুধু একটি প্রস্তুতি সফর নয়, বরং নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভিসা জটিলতা কাটিয়ে পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলনে ফিরতে পারলে সাফ মিশনে তাদের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।