প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল প্যারিস সেন্ট জার্মেইন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে ক্লাবটি দেখিয়ে দিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফরাসি ক্লাবটি। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে ৫-৪ গোলের জয় পায় পিএসজি, যা পুরো টাইয়ের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফিরতি লেগে ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই উসমান দেম্বেলের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্রুত গোল পাওয়ায় শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হয় ফরাসি ক্লাবটি। তবে শেষ মুহূর্তে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে, যখন ইনজুরি সময়ে হ্যারি কেইন গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান।
তবে দুই লেগ মিলিয়ে পিছিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত আর ফাইনালে ফেরা সম্ভব হয়নি জার্মান জায়ান্টদের। আক্রমণ, গতি এবং পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকা পিএসজি শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গা ধরে রাখে এবং টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরার মঞ্চে পৌঁছে যায়।
ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রুপপর্ব শেষেই তিনি বলেছিলেন যে তার দলই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। এখন ফলাফল সেটাই প্রমাণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনরিকে আরও বলেন, সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও তার দল মানসিকভাবে দৃঢ় এবং যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। তার মতে, বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতাই একটি দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি, আর পিএসজি সেটাই বারবার প্রমাণ করছে।
তিনি আর্সেনালের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন। এনরিকে মনে করেন, শুধু আক্রমণ নয়, প্রয়োজনে রক্ষণাত্মক কৌশলেও তার দল সমানভাবে দক্ষ, যা সেমিফাইনালেই স্পষ্ট হয়েছে।
এই সাফল্যের মাধ্যমে পিএসজি এখন আবারও ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখা ক্লাবটি গত মৌসুমে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল, আর এবার তারা সেই সাফল্য ধরে রাখার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ফরাসি লিগ ওয়ানে আধিপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি ইউরোপেও ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়ায় পিএসজি এখন ইতিহাস গড়ার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দলটির আক্রমণভাগ, বিশেষ করে দেম্বেলে ও অন্যান্য তারকারা দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পিএসজির এই ধারাবাহিকতা তাদের মানসিক শক্তিরও প্রমাণ। বড় ম্যাচে পিছিয়ে না পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দলটিকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে ফাইনালে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলেও মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে পিএসজি এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রত্যাশা ও চাপ দুটোই সমানভাবে বড়। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠা তাদের জন্য যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।