তিন দেশে তিন উদ্বোধনী আয়োজনে বিশ্বকাপ ২০২৬

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
তিন দেশে তিন উদ্বোধনী আয়োজনে বিশ্বকাপ ২০২৬

প্রকাশ: ৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি বিশ্বসংস্কৃতি, বিনোদন ও আবেগের এক মহামিলন। সেই ঐতিহ্যকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে এবার এক অভিনব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে FIFA। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি ভিন্ন দেশে আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে United States, Mexico ও Canada। প্রতিটি স্বাগতিক দেশেই নিজস্ব সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে আয়োজন করা হবে আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বকাপের এই নতুন পরিকল্পনাকে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর মাধ্যমে শুধু ফুটবল নয়, বরং উত্তর আমেরিকার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরতে চায় ফিফা। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষেও বিশেষ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, যা পুরো টুর্নামেন্টে বাড়তি উৎসবের আবহ তৈরি করবে।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্বাগতিক দেশের প্রথম গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দর্শকদের আগেভাগে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা এবং ম্যাচ শুরুর আগেই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতেই এই পরিকল্পনা। আয়োজকরা মনে করছেন, এতে কেবল খেলা নয়, পুরো বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতাই নতুন মাত্রা পাবে।

আগামী ১১ জুন FIFA World Cup 2026-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে মেক্সিকোতে। উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচের আগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন জনপ্রিয় মেক্সিকান সংগীতশিল্পী Maná, Alejandro Fernández এবং Belinda। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ গায়িকা Tyla-ও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। লাতিন সংগীতপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে থাকছে জনপ্রিয় ব্যান্ড Los Ángeles Azules।

ফিফা চাইছে, প্রতিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেন সংশ্লিষ্ট দেশের সংস্কৃতি ও সংগীত ঐতিহ্যের প্রতিফলন হয়। তাই মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে লাতিন আমেরিকার রঙ, নৃত্য ও সুরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আয়োজকদের আশা, উদ্বোধনী দিন থেকেই বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বজুড়ে।

এরপর ১২ জুন কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে স্বাগতিকদের প্রথম ম্যাচ। Toronto-তে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে কানাডা। ম্যাচের আগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান শিল্পী Michael Bublé, Alanis Morissette এবং Alessia Cara। কানাডার আয়োজনে আধুনিক পপ, জ্যাজ ও বিকল্প সংগীতের মিশেলে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জুন। SoFi Stadium-এ প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের আগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা Katy Perry। তার সঙ্গে পারফর্ম করতে পারেন জনপ্রিয় শিল্পী Rema। এছাড়া র‍্যাপ সংগীত ও ডিজে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন ডিমুন ক্যাশ ও ডিজে সঞ্জয়।

ফিফা শুধু উত্তর আমেরিকার শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্বকাপকে বৈশ্বিক সংস্কৃতির মিলনমেলা বানাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পীকে অনুষ্ঠানে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় আছেন Lisa, J Balvin, Anitta এবং আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা। এতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলো কেবল ফুটবলপ্রেমীদের নয়, সংগীতপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ ২০২৬ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সমৃদ্ধ আসরগুলোর একটি। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই টুর্নামেন্টে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে দর্শক ও সম্প্রচার আয়ের সম্ভাবনাও। ফিফা তাই ক্রীড়ার পাশাপাশি বিনোদন জগতকেও আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে চাইছে।

উত্তর আমেরিকার তিন দেশে ছড়িয়ে থাকা এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্টেডিয়াম উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও পর্যটন খাতেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে। আয়োজক দেশগুলো আশা করছে, বিশ্বকাপ তাদের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বরাবরই ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 2010 FIFA World Cup-এ শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থেকে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপের জমকালো আয়োজন—প্রতিটি আসরই দর্শকদের মনে বিশেষ স্মৃতি তৈরি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোও নতুন ইতিহাস গড়তে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এখন শুধু ম্যাচ নয়, বরং তিন দেশের তিন রঙের এই উদ্বোধনী উৎসবও বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সংগীত, সংস্কৃতি ও উৎসবের আলোয় বিশ্বকাপ ২০২৬ যে এক নতুন অভিজ্ঞতা উপহার দিতে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত