স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ৯ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি Mohammad Shahabuddin। শনিবার (৯ মে) সকালে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট রাজধানীর Hazrat Shahjalal International Airport থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে বিমানবন্দর এলাকায় ছিল বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রটোকল আয়োজন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-২০১ ঢাকার মাটি ত্যাগ করে। সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এই সফর মূলত চিকিৎসা-সংক্রান্ত হলেও এটি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসারেই সম্পন্ন হচ্ছে।

বিদায় মুহূর্তে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী Asaduzzaman Khan, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার Sarah Cooke, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন Yousuf S. Y. Ramadan এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা রাষ্ট্রপতিকে শুভযাত্রা জানান এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপের অংশ হিসেবে এবার যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মেডিকেল মূল্যায়ন করা হবে।

বঙ্গভবন সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতির বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ীই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সফরকালে তার সার্বিক শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে।

রাষ্ট্রপতির বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত সফর, তারপরও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিদেশ যাত্রা সবসময়ই জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা ও কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে স্বাভাবিকভাবেই।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বদের বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই মনে করেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হলে ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের জটিল চিকিৎসাও দেশে সম্ভব হবে। আবার অন্যদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশি হাসপাতালের সহায়তা প্রয়োজন হয়।

রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা সফরের সময় দেশে সাংবিধানিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরকালীন প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়মেই পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সফররত কর্মকর্তারা তার চিকিৎসা ও প্রটোকল সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সুস্থতা কামনা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শুভকামনা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। রাষ্ট্রপতির বয়স ও পূর্বের হৃদরোগজনিত অস্ত্রোপচারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

বিমানবন্দরে বিদায়ের সময় রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গীদের মধ্যেও ছিল সতর্কতা ও ব্যস্ততা। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সফরসূচি সমন্বয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পুরো সফরকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগেই সমন্বয় সম্পন্ন করা হয়েছে।

চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরকালে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফলো-আপ পরামর্শ এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ শেষে দেশে ফিরবেন তিনি। বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতির এই সফর শুধু একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিদেশ যাত্রা নয়, বরং দেশের মানুষের কাছে তার সুস্থতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—রাষ্ট্রপতি যেন সফলভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে দ্রুত সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত