প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শীর্ষ নেতা Mirza Abbas-এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। গত মার্চে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন এই প্রবীণ রাজনীতিক আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে সীমিত সময়ের জন্য আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন মির্জা আব্বাস। তার এই অগ্রগতি পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর চিকিৎসকদের কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া বিএনপির ভেতরেও আশাবাদের পরিবেশ তৈরি করেছে।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। রাজধানীর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমে সিঙ্গাপুরে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার জন্য তাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা চলছে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা আগ্রহী। তবে চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়া কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তারা। মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে এবং দীর্ঘ ভ্রমণের উপযোগী মনে হলে তবেই দেশে ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka-এ নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে জটিল সমস্যা শনাক্ত করেন এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকদিন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। সেই সময় দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ব্যাপক দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এক নাম। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের জন্যও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলনের সময় তার সক্রিয় উপস্থিতি বিএনপির ভেতরে তাকে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার অসুস্থতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, দলীয় রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী সমীকরণ এবং বিরোধী রাজনীতির নানা ইস্যুতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় মির্জা আব্বাসের সুস্থতার খবর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
এদিকে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকেও নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman-ও নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসন দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। তাই চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তার চিকিৎসা এগিয়ে নিচ্ছেন।
তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, আগের তুলনায় তিনি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং পরিচিতজনদের চিনতে পারছেন। সীমিত পরিসরে কথা বলছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনন্দিন কিছু অনুশীলনও করছেন। এসব ইতিবাচক পরিবর্তন পরিবারকে আশাবাদী করে তুলেছে। যদিও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে এখনও সময় লাগবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও তার সুস্থতা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তার সুস্থতা কামনা করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মানবিক দিকটিকেই সামনে এনেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের স্বাস্থ্যগত জটিলতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে। দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে তার সুস্থ হয়ে দেশে ফেরা শুধু পরিবার নয়, দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও বড় প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে চিকিৎসকদের চূড়ান্ত পরামর্শের ওপর। পরিবার চাইছে, সম্পূর্ণ নিরাপদ অবস্থায়ই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। আর বিএনপির নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছেন সেই দিনের জন্য, যখন দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে আবারও সক্রিয় রাজনৈতিক পরিসরে দেখা যাবে মির্জা আব্বাসকে।