শিক্ষা কারিকুলাম পুনর্গঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
বাংলাদেশে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম সংস্কার ও উচ্চশিক্ষা রূপান্তর উদ্যোগ

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালায় প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত দেশের শিক্ষা কারিকুলাম নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং উদ্ভাবনীমুখী করে গড়ে তোলার সময় এসেছে।

“বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর” শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক সিনেট ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, একটি আধুনিক জাতি গঠনের ভিত্তি তৈরি হয় স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার মানের ওপর।

তিনি আরও বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য “ইনোভেশন গ্রান্ট” চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি, স্টার্টআপ এবং গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও গতিশীল করবে।

কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এখন আর বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বয়স থেকেই বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ সুগম করবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার নিজের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের মেধা ধরে রাখা এবং মেধা পাচার রোধ করা এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য দেশে গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষায় সুযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষাবিদরা জানান, বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। তারা মনে করেন, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, মানবিক ও কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কারিকুলাম গড়ে তোলা জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতার ব্যবধান কমে আসতে পারে। পাশাপাশি উদ্ভাবনী গ্রান্ট চালু হলে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণামুখী করা এবং শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সংযোগ জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, একটি উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি আধুনিক, দক্ষ ও উদ্ভাবনী শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে।

কর্মশালাটি শেষ হয় শিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপান্তর নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামতের মাধ্যমে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত