মঙ্গলবারের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার প্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
মঙ্গলবারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের চাহিদা বিবেচনায় মঙ্গলবার (১২ মে) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন, ডলারের বাজারদর ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহকে আরও সক্রিয় করে তুলেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যারা নিয়মিতভাবে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি এবং বিভিন্ন পণ্য আমদানির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোতে মুদ্রার বিনিময় হারে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মঙ্গলবারের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, মার্কিন ডলার বা ইউএস ডলারের ক্রয় হার ১২২.১৫ টাকা এবং বিক্রয় হার ১২৩.১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যেও এই মুদ্রার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় হার ১৪১.৮০ টাকা এবং বিক্রয় হার ১৪৬.৬৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমে আসায় ইউরোর বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ব্রিটেনের পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার ক্রয় হার ১৬৪.০৭ টাকা এবং বিক্রয় হার ১৬৯.২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাউন্ড সাধারণত উচ্চমূল্যের মুদ্রা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এর ওঠানামা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

এশীয় মুদ্রাগুলোর মধ্যে জাপানি ইয়েনের ক্রয় হার ০.৭৭ টাকা এবং বিক্রয় হার ০.৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাপানের অর্থনৈতিক নীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ইয়েনের মান স্থিতিশীল থাকে।

সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয় হার ৯৫.৭৫ টাকা এবং বিক্রয় হার ৯৭.৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে সিঙ্গাপুরের মুদ্রা আন্তর্জাতিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের ক্রয় হার ৩৩.২৫ টাকা এবং বিক্রয় হার ৩৩.৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে সৌদি আরবের রিয়ালের ক্রয় হার ৩২.৫৪ টাকা এবং বিক্রয় হার ৩২.৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত থাকায় এই দুটি মুদ্রার সঙ্গে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ সরাসরি সম্পর্কিত।

অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার ক্রয় হার ৮৭.৭৪ টাকা এবং বিক্রয় হার ৮৯.৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে এই মুদ্রার চাহিদাও বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান।

ইউরোপীয় অঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সুইস ফ্রাঁর ক্রয় হার ১৫৫.২৩ টাকা এবং বিক্রয় হার ১৫৯.৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং খাতের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এই মুদ্রা বৈশ্বিক বাজারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এছাড়া চীনা ইউয়ানের ক্ষেত্রে ক্রয় হার ১৭.৮৭ টাকা এবং বিক্রয় হার ১৮.২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় ইউয়ানের বিনিময় হার আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ভারতীয় রুপির ক্ষেত্রে মঙ্গলবার ক্রয় হার ১.২৭ টাকা এবং বিক্রয় হার ১.৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে এই মুদ্রার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই হালনাগাদ হার দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে। ডলারের তুলনায় টাকার অবস্থান, রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি সবকিছুই এই বিনিময় হারের ওপর প্রভাব ফেলে।

তারা আরও বলেন, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়মিতভাবে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে আগামী দিনে টাকার মান আরও স্থিতিশীল হতে পারে। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত