ঈদের আগে রাজধানীতে ডাকাত চক্র গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
ঈদের আগে রাজধানীতে ডাকাত চক্র গ্রেফতার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে সক্রিয় একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, হাতবোমা এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীতে বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল এই চক্রটি, যা পুলিশের সক্রিয় নজরদারি ও গোপন অভিযানের মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন মো. লিটন জব্বার (৫২), ইসমাইল হোসেন মামুন (৫৫), মো. বাবুল বাবু (৪৫), আইয়ুব ভূইয়া (৩০) এবং মো. রোমান (৩৫)। পুলিশ জানিয়েছে, এরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ঈদ উপলক্ষে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল রাজধানীতে বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাই করা এবং রাজধানীর পাশের একটি জেলায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি করা। তারা একাধিক ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করত এবং প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার সংখ্যা ১৪ থেকে ১৫ পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে ডিবি-ওয়ারি বিভাগের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দয়াগঞ্জ টু যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক সড়কের একটি ফার্নিচার দোকানের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি, প্রায় দুই কেজি দুইশ গ্রাম বিস্ফোরক পদার্থ, একটি চাপাতি এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক ডাকাতির সময় ব্যবহার করার জন্য মজুদ করা হয়েছিল।

ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীতে অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে এবার আগেভাগেই গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, ব্যাংক, এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত প্রতিরোধ করা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা একটি সংগঠিত ডাকাত দলের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্গেট নির্বাচন করত এবং পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির চেষ্টা চালাত।

আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঈদ ও উৎসব মৌসুমে নগরীতে অপরাধ প্রবণতা কিছুটা বেড়ে যায়। কারণ এই সময় নগদ অর্থের চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে নিরাপত্তা শিথিল থাকে। ফলে অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে।

তারা বলেন, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং গোয়েন্দা নজরদারি এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সতর্কতাও সমানভাবে জরুরি।

ডিএমপি জানিয়েছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহল পুলিশ, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য এবং চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, শপিং মল, মার্কেট এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনোভাবেই তাদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সব মিলিয়ে ঈদের আগে রাজধানীতে সক্রিয় এই ডাকাত চক্রের গ্রেফতারকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত