প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বৃষ্টিবিঘ্নিত মিরপুর টেস্টে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করার পর পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬৮ রান। শেষ দিন হাতে থাকা দুই সেশনেই ম্যাচের ফল নির্ধারণ হবে, যেখানে জয়, হার কিংবা ড্র—তিন সম্ভাবনাই এখন খোলা।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের বেশিরভাগ সময় বৃষ্টির কারণে খেলা ব্যাহত হয়। ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দলই পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো ওভার খেলতে পারেনি। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ছিল ১৭৯ রান। পঞ্চম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই লিড আরও বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা।
পঞ্চম দিনের শুরুতেই অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস দ্রুত ফিরে গেলে বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে। মুশফিক মাত্র ২২ রান করে এবং লিটন দাস ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শান্ত তার আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় ইনিংসের পথে ছিলেন। তবে ৮৭ রানে পৌঁছে তিনি নোমান আলীর একটি বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে প্যাডে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আউট হন। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ১৫০ বল মোকাবিলা করে ৮৭ রানের এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি আবারও বড় স্কোরের খুব কাছে গিয়েও ফিরে যান।
শান্তর বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে পড়ে। একে একে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাদের মোট লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রান।
এই লিডকে কেন্দ্র করেই এখন টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। শেষ দিনে দুই সেশন হাতে থাকায় ম্যাচটি এখন তিন দিকেই যেতে পারে—বাংলাদেশের জয়, পাকিস্তানের জয় অথবা ড্র।
বাংলাদেশের ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত আবারও ব্যাট হাতে দলের ভরসা হয়ে ওঠেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্কের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৩ রানের জন্য তিনি সেঞ্চুরি এবং একটি বিরল রেকর্ড হাতছাড়া করেন।
ক্রিকেট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজন ব্যাটার টেস্টের দুই ইনিংসেই একাধিকবার সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন—যারা হলেন সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার। শান্ত সেই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত পারেননি।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে হাসান আলী ও নোমান আলী ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুজনই তিনটি করে উইকেট শিকার করেন এবং বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, উইকেট কিছুটা ধীর হলেও শেষ দিনে চাপ থাকবে দুই দলের ওপরই। পাকিস্তান যদি শুরুতে ভালো জুটি গড়তে পারে, তবে তারা ম্যাচে এগিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ যদি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারে, তাহলে জয়ও তাদের নাগালে আসতে পারে।
আগের দিন পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা বলেছিলেন, যদি ২৫০ রানের মতো লক্ষ্য দেওয়া হয়, তাহলে তারা জয়ের জন্যই খেলবেন। সেই কথার কাছাকাছি লক্ষ্যই এখন তাদের সামনে।
বাংলাদেশ দল অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে শান্তর ইনিংস এবং বোলারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের বাড়তি সাহস দিচ্ছে। তবে শেষ দিনে চাপ সামলানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্ট এখন রোমাঞ্চকর এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। শেষ সেশনে ম্যাচ কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।