বিশ্বকাপের আগে কুরাসাও শিবিরে কোচ সংকট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
বিশ্বকাপের আগে কুরাসাও শিবিরে কোচ সংকট

প্রকাশ:  ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফিফা বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। বিশ্বের বড় বড় ফুটবল শক্তির পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ Curaçao। ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার পর দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। ফুটবলপ্রেমীদের চোখে ছিল নতুন স্বপ্ন, নতুন গল্পের অপেক্ষা। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই আচমকা বড় ধাক্কা খেল কুরাসাও শিবির। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক এক মাস আগে দলটির প্রধান কোচ Fred Rutten দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আর তার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন কুরাসাও ফুটবলে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, গুঞ্জন এবং নতুন এক নাটকীয়তা।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন এই খবর নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ফ্রেড রুটেন নিজের বিদায়ের কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো পরিবেশ থাকা উচিত নয়, যা দল কিংবা স্টাফদের মধ্যে পেশাদার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরে দাঁড়ানোই তার কাছে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে দলকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং এখন কুরাসাওকে সামনের দিকে তাকাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুরো পরিস্থিতির যেভাবে পরিণতি হয়েছে, তাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত বলেও জানান।

তার এই বক্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ঠিক কী ঘটেছিল কুরাসাও শিবিরে? যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, দলের ভেতরে কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড় এবং ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। আর সেই পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত রুটেনকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রুটেনের বিদায়ের ফলে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে অভিজ্ঞ ডাচ কোচ Dick Advocaat-এর নাম। কয়েক মাস আগেও যিনি ছিলেন কুরাসাওয়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তার অধীনেই গত নভেম্বরে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি। ছোট্ট একটি ফুটবল জাতির জন্য সেটি ছিল এক অবিশ্বাস্য অর্জন। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে কুরাসাওয়ের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে তখনই।

তবে সেই সাফল্যের পরই ব্যক্তিগত এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন ডিক অ্যাডভোকাট। গুরুতর অসুস্থ মেয়ের পাশে থাকার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন ফ্রেড রুটেন। শুরুতে মনে করা হয়েছিল, বিশ্বকাপের আগে দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন তিনি। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়।

ডাচ সংবাদমাধ্যমগুলো এখন বলছে, অ্যাডভোকাটের মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি আবারও কোচিংয়ে ফিরতে আগ্রহী। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কুরাসাও দলের ড্রেসিংরুমের বড় একটি অংশও তাকে ফের দায়িত্বে দেখতে চায়। অনেক খেলোয়াড় মনে করছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ অ্যাডভোকাটই দলকে সবচেয়ে ভালোভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

মজার বিষয় হলো, কয়েক দিন আগেও কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন এই সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করেছিল। খেলোয়াড় ও স্পনসরদের পক্ষ থেকে দাবি উঠলেও তারা জানিয়ে দিয়েছিল, অ্যাডভোকাটকে ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু রুটেনের আকস্মিক পদত্যাগের পর সেই অবস্থান বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুরাসাওর ফুটবল অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে থাকবেন বিশ্বকাপে দলের ডাগআউটে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কুরাসাওয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ বিশ্বকাপের মতো আসরের আগে দলীয় স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি নতুন বা অনিশ্চিত কোচিং পরিবেশ খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি দল, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে, তাদের জন্য চাপ সামলানো এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তবে অনেকেই মনে করছেন, অ্যাডভোকাট ফিরে এলে সেটি আবারও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দল ও ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অভিজ্ঞতা, ম্যাচ পরিচালনার দক্ষতা এবং বড় টুর্নামেন্টে কাজ করার অভ্যাস কুরাসাওয়ের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে। যদি তিনি বিশ্বকাপের আগে দায়িত্বে ফেরেন, তাহলে ৭৮ বছর বয়সে তিনি হয়ে যাবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ। সেটিও হবে ফুটবল ইতিহাসের একটি বিশেষ অধ্যায়।

কুরাসাওর ফুটবল যাত্রাটাও কম নাটকীয় নয়। ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বড় ফুটবল শক্তিগুলোর আড়ালে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডাচ ফুটবল কাঠামোর প্রভাব, ইউরোপে বেড়ে ওঠা কুরাসাও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং সংগঠিত পরিকল্পনার কারণে দলটি দ্রুত উন্নতি করেছে। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সেই অগ্রযাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপের আসর। আর ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে শক্তিশালী Germany-এর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কুরাসাও। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাই কোচিং সংকট যত দ্রুত সমাধান হবে, ততই ভালো।

এদিকে কুরাসাওর সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ রুটেনের সিদ্ধান্তে হতাশ, আবার কেউ মনে করছেন অ্যাডভোকাটের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দলের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে অভিজ্ঞ এই ডাচ কোচকে ফিরিয়ে আনার দাবিও জোরালো হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে কুরাসাও শিবিরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা ফুটবল দুনিয়ারও নজর কেড়েছে। ইতিহাস গড়া এক দলের সামনে এখন নতুন পরীক্ষা। তারা কি দ্রুত সংকট কাটিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে তুলতে পারবে, নাকি কোচিং নাটকই তাদের প্রস্তুতিকে ব্যাহত করবে— সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত