ঈদযাত্রায় ট্রেন টিকিটে বাড়তি চাপ, প্রস্তুত রেলওয়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৫২ বার
ঈদযাত্রায় ট্রেন টিকিটে বাড়তি চাপ, প্রস্তুত রেলওয়ে

প্রকাশ: ১৩ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। প্রতিবছরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে ট্রেনের টিকিটের ওপর। নিরাপদ, তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের কারণে লাখো মানুষ ট্রেনযাত্রাকেই বেছে নিচ্ছেন। সেই চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু করেছে ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রি। প্রথম দিন বিক্রি হচ্ছে ২৩ মে যাত্রার টিকিট।

রেলওয়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে। অন্যদিকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে। আগের মতো এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। ফলে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন বা ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যেই ঈদযাত্রা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকিট নিশ্চিত করতে রাত জেগে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের মধ্যে টিকিট নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ দেখা গেছে। কারণ ঈদের সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া বরাবরই কঠিন হয়ে পড়ে।

রেলওয়ে জানিয়েছে, ২৩ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে ১৩ মে, ২৪ মে যাত্রার টিকিট ১৪ মে, ২৫ মে যাত্রার টিকিট ১৫ মে, ২৬ মে যাত্রার টিকিট ১৬ মে এবং ২৭ মে যাত্রার টিকিট ১৭ মে বিক্রি করা হবে। একইভাবে ঈদ শেষে ফেরত যাত্রার জন্য ৩১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত টিকিট ধাপে ধাপে বিক্রি হবে ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত।

ঈদযাত্রায় অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে এবারও সার্ভারের ওপর চাপ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। এতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী প্রবেশের কারণে সার্ভার জটিলতা কিছুটা কমবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই টিকিটের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রামমুখী ট্রেনগুলোতে প্রচণ্ড চাপ থাকে। তাই যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, একজন যাত্রী ঈদের অগ্রিম যাত্রা ও ফেরত যাত্রার ক্ষেত্রে একবার করে টিকিট কিনতে পারবেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। সহযাত্রীদের নাম ইনপুট দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঈদের অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার টিকিট কোনোভাবেই ফেরত বা রিফান্ড করা যাবে না। ফলে টিকিট কাটার সময় যাত্রীদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে তারিখের টিকিট বিক্রির বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ ঈদুল আজহার তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শেষ মুহূর্তে যাত্রার চাপ বাড়তে পারে।

এবারও যাত্রীদের জন্য একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে রেলওয়ে। যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ বা আসনবিহীন টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। তবে বিরতিহীন ট্রেনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা থাকবে না। এতে জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে সুযোগ পেতে পারেন।

টিকিট সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সহজেই নিবন্ধন ও টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। নতুন ব্যবহারকারীদের প্রথমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ট্যাবে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করলে অ্যাকাউন্ট চালু হবে।

যারা আগে থেকেই নিবন্ধিত আছেন, তারা সরাসরি লগইন করে কাঙ্ক্ষিত যাত্রার তারিখ, গন্তব্য, স্টেশন ও আসনের শ্রেণি নির্বাচন করে টিকিট খুঁজতে পারবেন। সিট খালি থাকলে পছন্দের আসন নির্বাচন করে অনলাইনেই পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে। ভিসা, মাস্টারকার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের পর সঙ্গে সঙ্গে ই-টিকিট ডাউনলোড করা যাবে। পাশাপাশি ই-মেইলেও টিকিটের কপি পাঠানো হবে।

ঈদযাত্রাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আনন্দ কাজ করছে, তেমনি রয়েছে উদ্বেগও। অনেকেই অভিযোগ করেন, টিকিট বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যায়। কেউ কেউ সার্ভার সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন। তবে রেলওয়ে বলছে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং অনলাইন সিস্টেম আরও উন্নত করা হয়েছে যাতে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঈদের সময় ট্রেনের চাহিদা বাড়ার মূল কারণ সড়কপথের যানজট ও ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার চেয়ে নির্ধারিত সময়ে ট্রেনে যাত্রা করাকে মানুষ বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করেন। ফলে ট্রেনের ওপর চাপ প্রতি বছরই বাড়ছে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে ট্রেনের সংখ্যা ও আসন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুরও পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

এদিকে স্টেশনগুলোতেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। নিরাপত্তা জোরদার, অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।

ঈদ মানেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি। সেই আনন্দময় যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ট্রেনের টিকিট এখন ঘরমুখো মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত