বিসিবি নির্বাচনে গঠিত হলো ৩ সদস্যের কমিশন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ২ বার
বিসিবি নির্বাচনে গঠিত হলো ৩ সদস্যের কমিশন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক অঙ্গনে আবারও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনার পর্ব। ২০২৬ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিবির ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিমকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপ-সচিব ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ. বি. এম. এহসানুল মামুন। ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই অভিজ্ঞ ও প্রশাসনিক দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকরা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পরিচালকদের মধ্য থেকেই সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফলে এই নির্বাচন কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিকেট প্রশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে অনেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

বিসিবি জানিয়েছে, বিদ্যমান গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনবিধি অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, ক্লাব এবং সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের কাছে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য আগামী ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে কাউন্সিলরদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারাই মূলত পরিচালকদের নির্বাচিত করেন। ফলে কাউন্সিলর তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াকে নির্বাচন প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতে কাউন্সিলর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিরোধ, অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের আলোচনা দেখা গেছে। তবে এবার নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জাতীয় দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের উন্নয়ন, ঘরোয়া লিগের কাঠামোগত সমস্যা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং মাঠের বাইরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। ফলে আগামী বোর্ড নির্বাচনে কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান বোর্ডের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় দলের কোচিং কাঠামো, বিপিএলের আয়োজন, ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও প্রশংসা—দুটিই ছিল। এর মধ্যেই নতুন নির্বাচন সামনে আসায় বিসিবির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহসানুল করিম দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিচার ও আইন অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত। প্রশাসনিক ও আইনি বিষয় সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারি ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ অন্য দুই সদস্যের উপস্থিতিও পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বিসিবি নির্বাচন সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। কারণ ক্রিকেট এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং বিসিবি দেশের অন্যতম শক্তিশালী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। এই বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ, তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান এবং কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিকেট প্রশাসনে আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর দাবি জোরালো হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, দেশের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে হলে শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রয়োজন। সেই বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনকে শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং ক্রিকেট সংস্কারের একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাও এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া এগিয়ে থাকা কঠিন। ফলে নতুন বোর্ড নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবি কতটা কার্যকর ও ভবিষ্যতমুখী নেতৃত্ব পায়, সেটি নিয়েও আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং নিয়ম মেনেই পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের দৃষ্টি আগামী কয়েক সপ্তাহের দিকে, যখন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হবে কারা আসছেন নতুন নেতৃত্বে এবং কোন দিকেই এগোতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত