কারিনার জীবন বাঁচাতে ভাই দিচ্ছেন লিভার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৪৭ বার
কারিনার জীবন বাঁচাতে ভাই দিচ্ছেন লিভার

প্রকাশ: ১৩ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী Karina Kayser-কে ঘিরে উদ্বেগে আছেন তার ভক্ত, সহকর্মী এবং পরিবার। কয়েকদিন ধরেই গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। দেশে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের Chennai নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভেলোরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ফুসফুসের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনার পর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। আর সেই জীবনরক্ষাকারী লিভার দান করতে এগিয়ে এসেছেন তারই এক ভাই।

কারিনার শারীরিক অবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তরা তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। পরিচিত মুখ হিসেবে শুধু অভিনয় নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতির কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত ছিলেন তিনি। তাই হঠাৎ অসুস্থতার খবর অনেককেই নাড়া দিয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর Hazrat Shahjalal International Airport থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন কারিনা। তার সঙ্গে ছিলেন মা এবং দুই ভাই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ফুটবলার Kaiser Hamid।

তিনি জানান, চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রথমেই কারিনার ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। বর্তমানে তার ফুসফুসে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শরীরের অন্যান্য জটিলতাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল না হলে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে চিকিৎসা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

কারিনার বাবা আরও জানান, দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়েছিল বলে ভারতীয় চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন। এ কারণে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ওষুধের প্রভাব কাটিয়ে তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে তার রক্তচাপ এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পরিবার কিছুটা আশ্বস্ত।

সবচেয়ে আবেগঘন খবরটি এসেছে পরিবারের পক্ষ থেকেই। কারিনার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য তার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছোট ভাই সাদাত হামিদের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। ফলে তিনিই সম্ভাব্য ডোনার হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের পরীক্ষার ওপর নির্ভর করবে।

একজন ভাইয়ের এমন সিদ্ধান্তে পরিবারে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, কারিনাকে সুস্থ করে তুলতে সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করা হচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। রোগীর শারীরিক অবস্থা, ডোনারের শারীরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রোপচারের পরবর্তী চিকিৎসা— সবকিছুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লিভার প্রতিস্থাপনের আগে ফুসফুস বা অন্যান্য অঙ্গের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তাই কারিনার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকেরা সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনেও কারিনার অসুস্থতার খবর গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। অনেকে তার পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এই কঠিন সময়ে পরিবারের সংহতি ও ভালোবাসাই কারিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

Karina Kayser মূলত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও অভিনয় ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তার কাজ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে Internship এবং 36-24-36 সিরিজে তার কাজ দর্শকমহলে আলোচনায় আসে। ক্যামেরার সামনে সাবলীল অভিনয় এবং সমসাময়িক গল্প বলার ভঙ্গির কারণে তরুণ দর্শকদের কাছে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

ভক্তরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবসময় হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত কারিনাকে তারা এমন অসুস্থ অবস্থায় দেখতে চান না। অনেকেই লিখছেন, “কারিনা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরুন।” অনেকে আবার ভাইয়ের এই আত্মত্যাগের সিদ্ধান্তকে মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

বর্তমানে পরিবারের সব মনোযোগ চিকিৎসার দিকেই। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকা কারিনার অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাবে— এমন আশাই করছেন স্বজনরা। তবে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া এখনও দীর্ঘ এবং জটিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, জনপ্রিয়তার আড়ালেও একজন মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারেন কঠিন অসুস্থতার সামনে। আর ঠিক সেই সময় পরিবার, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ভরসা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত