প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হলিউডের অন্যতম আলোচিত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট হিসেবে সামনে এসেছে কিংবদন্তি নির্মাতা Christopher Nolan-এর নতুন সিনেমা The Odyssey। গ্রিক পুরাণভিত্তিক এই মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। বড় বাজেট ও তারকাবহুল কাস্টিংয়ের কারণে এটি আগামী বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিনেমাটিতে গ্রিক পুরাণের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইথাকার রাজা ওডিসিউসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন হলিউড তারকা Matt Damon। তার স্ত্রীর চরিত্র পেনেলোপি হিসেবে থাকছেন Anne Hathaway এবং তাদের পুত্র টেলেমাকাসের ভূমিকায় দেখা যাবে তরুণ তারকা Tom Holland-কে। এই ত্রয়ীর পারিবারিক সম্পর্ক ও বিচ্ছিন্নতার আবেগঘন গল্পই সিনেমার অন্যতম কেন্দ্রীয় অংশ।
সবচেয়ে আলোচিত সংযোজনগুলোর মধ্যে অন্যতম হল দেবী অ্যাথেনার চরিত্রে Zendaya-এর অভিনয়। জ্ঞান, কৌশল ও যুদ্ধনীতির দেবী হিসেবে গ্রিক পুরাণে অ্যাথেনার গুরুত্ব অপরিসীম। নোলানের এই নতুন ব্যাখ্যায় জেনডায়ার উপস্থিতি চরিত্রটিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
সিনেমার ভিলেন চরিত্র অ্যান্টিনাস হিসেবে দেখা যাবে Robert Pattinson-কে। তার চরিত্রকে কেন্দ্র করে ওডিসিউসের প্রত্যাবর্তন ও ইথাকা পুনরুদ্ধারের লড়াই আরও নাটকীয় ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বহুমাত্রিক চরিত্রে থাকছেন Lupita Nyong’o, যিনি হেলেন অফ ট্রয় এবং ক্লাইটেমনেস্ট্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করবেন।
নোলানের সিনেমা মানেই সময় ও বাস্তবতার জটিল বিন্যাস। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। জানা গেছে, The Odyssey-এ কাহিনি দুটি ভিন্ন সময়রেখায় এগোবে। একদিকে থাকবে ওডিসিউসের বিপদসংকুল সমুদ্রযাত্রা, অন্যদিকে তার অনুপস্থিতিতে পুত্র টেলেমাকাসের রাজনৈতিক ও মানসিক সংগ্রাম। এই দুই ধারার গল্প একত্রে মিলিত হয়ে একটি বৃহৎ নাটকীয় পরিসর তৈরি করবে।
পুরাণের মূল কাহিনি অনুসারে, ট্রয় যুদ্ধ শেষে দীর্ঘ দশ বছর ধরে ঘরে ফেরার সংগ্রামে ছিলেন ওডিসিউস। এই যাত্রাপথে তাকে মোকাবিলা করতে হয় নানা পৌরাণিক প্রাণী, দেবতাদের বাধা এবং মানবিক সংকটের। নোলানের নতুন ব্যাখ্যায় এই যাত্রাকে শুধু অ্যাডভেঞ্চার নয়, বরং মানসিক টানাপোড়েন ও পরিচয় সংকটের প্রতীক হিসেবেও উপস্থাপন করা হবে।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জেনডায়ার অ্যাথেনা চরিত্র। গ্রিক পুরাণে অ্যাথেনা কেবল যুদ্ধের দেবী নন, বরং ন্যায়বোধ, কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার প্রতীক। নোলানের চলচ্চিত্রে এই চরিত্রকে মানবিক ও নৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে দেবী চরিত্র হলেও তার উপস্থিতি কাহিনির বাস্তব সিদ্ধান্ত ও সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, The Odyssey শুধু একটি পৌরাণিক অভিযানের গল্প নয়, বরং এটি আধুনিক সিনেমার ভাষায় এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক মহাকাব্য হয়ে উঠবে। নোলানের পূর্ববর্তী কাজগুলোর মতোই এখানে থাকবে জটিল গল্প বলার কৌশল, ভিজ্যুয়াল গভীরতা এবং দর্শকের চিন্তাকে নাড়া দেওয়ার মতো উপাদান।
চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই। বিশ্বব্যাপী একযোগে মুক্তি পাবে এই সিনেমা। ইতোমধ্যেই হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এটিকে সম্ভাব্য ব্লকবাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বড় বাজেট, তারকাবহুল কাস্ট এবং নোলানের পরিচালনা—সব মিলিয়ে ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
দর্শকদের আগ্রহ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, বিশেষ করে জেনডায়ার অ্যাথেনা চরিত্রকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা, যেখানে ভক্তরা তাকে এই পৌরাণিক চরিত্রে কল্পনা করে নানা রকম পোস্ট ও বিশ্লেষণ করছেন।
সব মিলিয়ে The Odyssey হয়ে উঠছে এমন একটি সিনেমা, যা শুধু পৌরাণিক গল্প নয়, বরং আধুনিক সিনেমার প্রযুক্তি ও শিল্পের এক নতুন সংযোজন হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।