সন্ধ্যার মধ্যে ৯ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৫১ বার
৯ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের একাধিক অঞ্চলে ফের কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে দেশের অন্তত ৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময় বজ্রপাত, বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবার সকালে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ের সময় বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে উন্মুক্ত স্থানে অবস্থানরত মানুষ, বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক ও নদীপথে চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যাতে নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে আরও জানানো হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের এলাকায় থাকা লঘুচাপ বর্তমানে ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরেকটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় রয়েছে। এসব আবহাওয়াগত অবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু অংশেও ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত হতে পারে। খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায়ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই সময়ের কালবৈশাখী মূলত মৌসুমি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ঘটে থাকে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা হঠাৎ করে বজ্রঝড় ও ঝড়ো হাওয়ার জন্ম দেয়। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই ধরনের আবহাওয়া বেশি দেখা যায়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদীর তীর বা উঁচু স্থানে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্বল ঘরবাড়ি ও কাঁচা স্থাপনার কাছেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কালবৈশাখীর তীব্রতা ও অনিয়মিততা কিছুটা বেড়েছে। কখনো আকস্মিকভাবে শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানছে, আবার কখনো একাধিক জেলায় একসঙ্গে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এতে জনজীবনে স্বল্পমেয়াদি হলেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

গ্রামীণ ও নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের জন্য এই ধরনের আবহাওয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে। কৃষিপণ্য, গবাদিপশু এবং চলমান ফসল রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, দেশের ৯ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে সম্ভাব্য কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন আপডেট জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত