বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবার পতন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
বিশ্ববাজার স্বর্ণের দাম পতন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পতন দেখা গেছে। টানা ওঠানামার মধ্যে থাকা এই মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্পট গোল্ডের দাম সামান্য কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭১০ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমে আসে। এর আগের সেশনে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল, যেখানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছিল।

অন্যদিকে একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্সের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭১৭ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। এই বিপরীতমুখী প্রবণতা বাজারে অনিশ্চয়তা এবং স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার দ্রুত কমানোর সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, কারণ তখন বন্ড ও অন্যান্য সুদযুক্ত সম্পদ বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে স্বর্ণবাজার দুটি বড় শক্তির মধ্যে চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ কেনার দিকে উৎসাহিত করছে, অন্যদিকে শক্তিশালী ডলার এবং উচ্চ সুদের হার সেই চাহিদাকে সীমিত করছে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতন কোনো দীর্ঘমেয়াদি ধারা নয়, বরং এটি একটি স্বল্পমেয়াদি সংশোধন। কারণ আগের দিনই স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল এবং বিনিয়োগকারীরা তখন বৈশ্বিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য স্বর্ণে ঝুঁকেছিলেন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, তা স্বর্ণের বাজারকে বারবার প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা আসছে না।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের দিকেও। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকের ফলাফল বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে স্বর্ণসহ অন্যান্য পণ্যের দামে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণবাজার এখন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে—মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। এই তিনটির যেকোনো একটির পরিবর্তনই বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন, আবার অনেকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দরবৃদ্ধির আশায় স্বর্ণ ধরে রাখছেন। ফলে বাজারে একটি ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে দামের ওঠানামা খুব দ্রুত ঘটছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে। এতে স্বর্ণের চাহিদা আরও কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে আবারও স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

বিশ্ববাজারে চলমান এই অস্থিরতার মধ্যে স্বর্ণ এখনো বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে স্বল্পমেয়াদে এর দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে স্বর্ণবাজার এখন কেবল অর্থনৈতিক সূচক নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি, মুদ্রানীতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির এক জটিল সমন্বিত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত