ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে ট্রেনের টিকিট শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ২০ বার
ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের মধ্যে টিকিট সংগ্রহে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আজ বিক্রি করা হচ্ছে আগামী চব্বিশ মে’র যাত্রার টিকিট।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে এবার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঈদের আগে পাঁচ দিনের অগ্রিম টিকিট ধাপে ধাপে অনলাইন ও নির্ধারিত মাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে এবারও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, আজ সকাল আটটা থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রথম ধাপে পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহের সুযোগ পান। একই দিনে দুপুর দুইটা থেকে পূর্বাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনযাত্রা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ট্রেন ভ্রমণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হওয়ায় এই সময় টিকিটের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রতিটি ধাপেই যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবারও অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত কাউন্টারেও সীমিত পরিসরে টিকিট বিক্রি চালু রাখা হয়েছে, যাতে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ ভোগান্তির শিকার না হন।

ঈদযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রেলওয়ে বিশেষ সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এই সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট তারিখের যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। বুধবার বিক্রি হয়েছে তেইশ মে’র টিকিট, আর আজ চব্বিশ মে’র টিকিট বিক্রি চলছে। আগামী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে পঁচিশ, ছাব্বিশ ও সাতাশ মে’র টিকিট বিক্রি করা হবে।

যাত্রীদের মধ্যে সকাল থেকেই টিকিট পাওয়ার জন্য আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রবেশের কারণে কিছু সময়ের জন্য সার্ভারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং টিকিট বিক্রি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট নিয়ে প্রতি বছরই এক ধরনের চাপ ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। যদিও অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় অনেকটা স্বচ্ছতা এসেছে, তবুও উচ্চ চাহিদার কারণে অনেক যাত্রী শুরুতেই টিকিট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। এ কারণে রেলওয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ট্রেন চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ ট্রেন চালানো হবে, যাতে কেউ ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত না হন। পাশাপাশি ট্রেনের নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা এবং পরিষেবার মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ব্যস্ততা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে গ্রামের বাড়ি ফেরার এই যাত্রা বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে এক বিশেষ আবেগের অংশ। তাই অগ্রিম টিকিট পাওয়া অনেকের জন্য স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় নিয়ে টিকিট বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি এড়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে যাত্রীরা আশা করছেন, এবার ঈদযাত্রা আগের তুলনায় আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। বিশেষ করে সময়মতো ট্রেন চলাচল এবং অতিরিক্ত ট্রেন সংযোজন যাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি এসেছে, তেমনি টিকিট পাওয়ার প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত