প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর ও বিতর্কিত হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তেহরানকে অবশ্যই ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় দেশটিকে “সম্পূর্ণ ধ্বংস” অথবা “নিশ্চিহ্ন হওয়ার” মুখোমুখি হতে হবে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন একটি সম্প্রচার মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যা পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা সহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, ইরান যদি দ্রুত কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা হয় চুক্তি করবে, না হয় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষায়, তেহরান তাদের কিছু অস্ত্র ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে এবং নতুন করে কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা ওয়াশিংটনের নজরে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ এলাকায় মোতায়েন করা ইরানি মিসাইলগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে রয়েছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতে সেগুলো খুব দ্রুত ধ্বংস করা সম্ভব।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভূগর্ভ থেকে সরিয়ে ফেলেছে, যা তাদের সামরিক কৌশলের অংশ হতে পারে। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করতে পারে।
এছাড়া তিনি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মিশ্র মন্তব্য করেন। একদিকে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের আচরণ আগের তুলনায় কিছুটা বেশি “যৌক্তিক” মনে হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সাবেক কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বলেন, নতুন নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি “বুদ্ধিমান” হলেও বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।
ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি মূলত নিরাপত্তার চেয়ে বেশি “জনসংযোগ বা প্রচারণার বিষয়”। তার মতে, এই উপাদান সরিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে রাজনৈতিক ও প্রচারণার দিক থেকে এর গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যাকে তিনি “ভুয়া সংবাদমাধ্যম” হিসেবে অভিহিত করেন, তাদের জন্য এই বিষয়গুলো বেশি আলোচিত হয়। তার ভাষায়, তিনি আগেই এই ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
লিঙ্কন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলের পাশে দেওয়া আরেকটি বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা না হয়, তাহলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তার ভাষায়, “তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হবে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে এমন হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে, যার মাধ্যমে তিনি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছেন। তবে একই সঙ্গে এমন কঠোর ভাষা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে বিরোধের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগেও পুরোপুরি সমাধান আসেনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এমন হুমকি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই হুমকি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।