বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির নতুন শঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুক্রবার (১৫ মে) গ্রিনিচ মান সময় ০২:০৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬১৩.১৯ ডলারে দাঁড়ায়। এটি ৬ মে’র পর স্বর্ণের সর্বনিম্ন মূল্য। চলতি সপ্তাহে মোট মিলিয়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ২.১ শতাংশ কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের স্বর্ণ সরবরাহের ফিউচার দরও ১.৪ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৪,৬১৯ ডলারে নেমে এসেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধু স্পট মার্কেট নয়, ভবিষ্যৎ বাজারেও স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মান ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বাজারে উত্থান-পতনও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইরান–সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক সপ্তাহে প্রায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৬ ডলারের ওপরে লেনদেন হচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে আবারও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে বন্ড বা সুদভিত্তিক বিনিয়োগে ঝুঁকে পড়েন, কারণ সেখান থেকে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাওয়া যায়।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি আবারও বেড়েছে। এর ফলে ডলার ও বন্ডের ইল্ড বাড়ছে, যা স্বর্ণের বাজারের ওপর চাপ তৈরি করছে। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদে নিরাপদ কিন্তু বেশি রিটার্নযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। রুপার দাম ৩.১ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৮০.৯৩ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১.৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৯ শতাংশ কমেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধু স্বর্ণ নয়, পুরো মূল্যবান ধাতুর বাজারেই চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেও স্বর্ণ সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যখন সুদের হার বেশি থাকে এবং ডলারের মান শক্তিশালী হয়, তখন স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে ঠিক এমনই একটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামে আবারও ওঠানামা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আপাতত বাজারে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় দাম নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত, ডলারের অবস্থান এবং তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা স্বর্ণের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও স্বর্ণের বাজারে আপাতত দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত