প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউডে নেপোটিজম বা স্বজনপ্রীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই সরাসরি নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন অভিনেতা আমির খানের ছেলে জুনাইদ খান। তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, তার পারিবারিক পরিচয়ের কারণে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি বাড়তি সুযোগ পাচ্ছেন। তার এই খোলামেলা মন্তব্য ইতোমধ্যে বলিউড মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মহারাজ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় জুনাইদ খানের। ১৮৬২ সালের ঐতিহাসিক ‘মহারাজ মানহানি মামলা’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় সাংবাদিক কারসানদাস মুলজির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান। সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেন জয়দীপ আহলাওয়াত, শালিনী পান্ডে এবং শর্বরী।
অভিষেকের পর থেকেই জুনাইদ খান আলোচনায় থাকলেও তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে বারবার উঠে এসেছে বলিউডের নেপোটিজম বিতর্ক। বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। অনেকেই বলিউডে তারকা সন্তানদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সমালোচনার চোখে দেখছেন।
তবে অন্য অনেক তারকা সন্তান যেখানে এ বিষয়ে সতর্ক বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেন, সেখানে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন জুনাইদ। সম্প্রতি সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেপোটিজম শব্দটি তাকে কোনোভাবেই অস্বস্তিতে ফেলে না। তার মতে, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি শুধু শিল্পের জায়গা নয়, এটি একটি বড় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রও। তাই এখানে অনেক সিদ্ধান্তই ব্যবসায়িক বাস্তবতার ওপর নির্ভর করে।
জুনাইদ আরও বলেন, তিনি স্বীকার করেন যে আমির খানের ছেলে হওয়ার কারণে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তার ভাষায়, অনেক প্রযোজক ও নির্মাতা তার নামের কারণে তাকে নিয়ে আগ্রহী হন, যা নতুনদের ক্ষেত্রে সাধারণত ঘটে না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, বলিউডে কাস্টিং প্রক্রিয়ায় অভিনেতার প্রতিভার পাশাপাশি তার বাজারযোগ্যতা বা বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তারকা সন্তানদের ক্ষেত্রে দর্শকের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি থাকে, যা নির্মাতাদের জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত বিতর্ককে অস্বীকার না করে বরং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তার এই স্বচ্ছ বক্তব্যকে কেউ কেউ সাহসী হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে নেপোটিজম বিতর্কের আরও একটি স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, জুনাইদের এই বক্তব্য ইন্ডাস্ট্রির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে পারিবারিক পরিচয় অনেক সময় ক্যারিয়ার শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য প্রতিভা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই মূল নির্ধারক।
‘মহারাজ’ সিনেমায় তার অভিনয় ইতোমধ্যে তাকে নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের এই সিনেমায় সংবেদনশীল চরিত্রে তার উপস্থাপন প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বর্তমানে তিনি আরও কিছু নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন বলে জানা গেছে, যদিও সেগুলোর বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। বলিউডে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার কেমন হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে।
সব মিলিয়ে, আমির খানের ছেলে হিসেবে পাওয়া সুবিধা নিয়ে তার সরল স্বীকারোক্তি বলিউডের পুরনো বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। তবে একই সঙ্গে এটি ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।