ঈদে ট্রেন টিকিটে স্বস্তি, ফিরতি বিক্রি শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৩২ বার
ঈদে ট্রেন টিকিটে স্বস্তি, ফিরতি বিক্রি শুরু

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঈদ শেষে রাজধানীতে ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। এদিন ১ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হয়, যা ঘিরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং রেলস্টেশনগুলোতে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

রেলওয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আর দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও টিকিট সংগ্রহ করতে অনলাইনে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ভোর থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে বসেন কাঙ্ক্ষিত টিকিট সংগ্রহের আশায়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদযাত্রাকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে ধাপে ধাপে অগ্রিম টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ৩১ মে’র ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। আগামী শনিবার ২ জুনের, ২৪ মে ৩ জুনের এবং ২৫ মে ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে।

ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা প্রতি বছরই কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রামমুখী রুটগুলোতে টিকিট পাওয়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ আসন শেষ হয়ে যায়। তবে এবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হয়েছে।

গত ১৩ মে শুরু হয় ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি। ওইদিন ২৩ মে যাত্রার টিকিট সংগ্রহ করেন যাত্রীরা। পরবর্তী দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আগেভাগে পরিকল্পনা নেওয়ায় টিকিট ব্যবস্থাপনায় কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে।

ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও বাড়তে শুরু করেছে যাত্রীদের ভিড়। যদিও বেশিরভাগ টিকিট এখন অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, তবুও সরাসরি তথ্য জানতে এবং যাত্রাসংক্রান্ত নানা বিষয়ে খোঁজ নিতে স্টেশনে আসছেন অনেকে। যাত্রীদের কেউ কেউ বলছেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ট্রেনই এখন সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ মাধ্যম। বিশেষ করে দীর্ঘ যানজট এবং মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে তারা ট্রেন ভ্রমণকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

এদিকে যারা অনলাইনে বা নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের জন্য নতুন স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে রেলস্টেশনগুলোতে তাৎক্ষণিক বা ইনস্ট্যান্ট টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হবে। এতে শেষ মুহূর্তেও যাত্রীরা বৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, সীমিত সংখ্যক তাৎক্ষণিক টিকিট স্টেশন থেকে দেওয়া হবে, যাতে জরুরি প্রয়োজন হলে যাত্রীরা টিকিটবিহীন অবস্থায় ভ্রমণ করতে বাধ্য না হন।

প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকেই মনে করছেন, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে যারা হতাশ হন, তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হয়ে আসবে। তবে একইসঙ্গে তারা চাইছেন, ইনস্ট্যান্ট টিকিট যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা কালোবাজারির সুযোগ তৈরি না করে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে এবার নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যবহারকারীর জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে টিকিট কেনার ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রার সময় ট্রেনের ওপর চাপ বাড়লেও এটি দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক দিক। কারণ ট্রেন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে রেলপথে আরও বিনিয়োগ এবং নতুন কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বেশ কিছু বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কিছু আন্তঃনগর ট্রেনের অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের কথাও বিবেচনা করছে রেলওয়ে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঈদকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের আবেগ সবসময়ই আলাদা। কর্মব্যস্ত রাজধানী ছেড়ে পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দ অনেকের কাছেই বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। সেই যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন যাত্রীরা। তবে তারা চাইছেন, শুধু টিকিট বিক্রি নয়, ট্রেনের সময়সূচি মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখুক।

বাংলাদেশে ঈদযাত্রা মানেই বাড়তি ভিড়, বাড়তি চাপ এবং নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। তারপরও প্রতি বছর লাখো মানুষ ট্রেনে করে প্রিয়জনের কাছে ছুটে যান। এবারের ঈদেও সেই চিরচেনা দৃশ্যের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আর ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরুর মধ্য দিয়ে ঈদ-পরবর্তী ব্যস্ততারও আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত