প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে রাজধানীর রেলস্টেশনগুলোতে। যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ঠেকাতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের সুযোগ না থাকে।
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার কবির হোসেন শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং সকাল থেকে ইতোমধ্যে একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবার বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্টেশন ম্যানেজার আরও জানান, এবারের ঈদযাত্রায় প্রায় ৪৫ হাজার আসনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় সর্বনিম্ন শ্রেণিতে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটও দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
তিনি জানান, আগামীকাল শনিবার থেকে ৪৩ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৩ জোড়া কমিউটার ট্রেনসহ মোট ৬৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে, যাতে যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন হয়।
তবে ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অতীতে অনেক যাত্রী ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। এই প্রবণতা বন্ধ করতে এবার বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। স্টেশন ম্যানেজার জানান, টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথম স্তরে থাকবে স্টেশন প্রবেশপথে কঠোর টিকিট যাচাই ব্যবস্থা, যাতে অবৈধভাবে কেউ প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারে। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে প্ল্যাটফর্ম এলাকায় রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি, যারা যাত্রীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবেন। তৃতীয় স্তরে থাকবে ট্রেন চলাচলের সময় মোবাইল টহল ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যাতে কেউ ট্রেনের ছাদে উঠতে না পারে।
স্টেশন ম্যানেজার কবির হোসেন আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা রেলওয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই কালোবাজারি ও দালাল চক্রকে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে থাকবে। কেউ যেন অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি বা অবৈধভাবে যাত্রী হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যেন দালাল বা কালোবাজারির কাছ থেকে টিকিট না কেনেন। শুধুমাত্র বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে যাত্রা করলে ভোগান্তি কমবে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই ট্রেনে যাত্রীর চাপ বাড়ে, বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে স্টেশনগুলোতে। এই সময়টিতে অতিরিক্ত ভিড়, টিকিট সংকট এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় রেলওয়ের জন্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণও। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পড়ে যাওয়া কিংবা প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে। তাই রেলওয়ের এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, টিকিট না পেলে বা ভিড় বেশি হলে আগেও অনেকে ছাদে ভ্রমণের ঝুঁকি নিতেন। তবে এবারের কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তারা আশা করছেন, পরিস্থিতি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল টিকিটিং এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে। এবারের তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।