বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ টমাস ডুলি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ৩২ বার
বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ টমাস ডুলি

প্রকাশ: ২২ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন কোচ টমাস ডুলি। দীর্ঘদিন ধরে চলা অপেক্ষা, জল্পনা-কল্পনা এবং আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ফুটবলের ডাগআউটে আসছেন এই অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোচ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর থেকেই দেশের ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন করে আশার আলো ও প্রত্যাশার আলোচনা।

৬৫ বছর বয়সী এই কোচ আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তার বাংলাদেশে আগমনকে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা দেখছেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে আগামী রোববার থেকেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে মাঠে নামবেন তিনি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডো এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি সামনে রেখে দ্রুতই দল গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

টমাস ডুলির জন্ম জার্মানিতে হলেও তার খেলোয়াড়ি জীবন কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি জার্মানির শক্তিশালী দল বায়ার লেভারকুসেন ও শালকের হয়ে খেলেছেন। শালকের হয়ে তিনি ১৯৯৭ সালে উয়েফা কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেন। পাশাপাশি কাইজারস্লাউটার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছেন তিনি, যা তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর কোচিংয়ে এসে ডুলি ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন আধুনিক ফুটবল চিন্তাবিদ হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে তিনি জার্গেন ক্লিন্সম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন, যা তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করে। এরপর তিনি ফিলিপাইন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন। তার অধীনে ফিলিপাইন এশিয়ান কাপের টিকিটও নিশ্চিত করে, যা ওই দেশের ফুটবলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর তিনি ভিয়েতনামের একটি শীর্ষ ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন এবং ফুটবল ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখেন। সর্বশেষ তিনি গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। বিভিন্ন মহাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে একজন বহুমাত্রিক কোচে পরিণত করেছে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের মত।

বাংলাদেশ জাতীয় দল বর্তমানে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও আধুনিক ফুটবল দর্শনের একজন কোচকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বাফুফে মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে এগোতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দলের তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছানোই এখন মূল লক্ষ্য।

নতুন কোচের প্রথম পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৫ জুন। ইউরোপের সান মেরিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে দল প্রস্তুত করবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচকে ডুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করে নিজের কৌশলগত পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন।

বাংলাদেশ ফুটবলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন কোচকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও আশার জায়গাও বড়। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দলকে নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডুলির অভিজ্ঞতা কতটা কাজে আসে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভিন্ন মহাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা একজন কোচ বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করতে পারেন।

বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোচ ডুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই চুক্তি করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি সাফল্য নয়, বরং দলীয় কাঠামো উন্নয়ন, যুব উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, নতুন এই অধ্যায় বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়ার বাস্তবতা কাটিয়ে বাংলাদেশ আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে—এমন আশাই এখন ঘুরে ফিরে শোনা যাচ্ছে সমর্থকদের কণ্ঠে।

সব মিলিয়ে টমাস ডুলির আগমন শুধু একজন কোচের পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনার সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত