প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি এই অভিযানকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরব অবস্থানকে ‘লজ্জাজনক’, ‘নৈতিক কাপুরুষতা’ এবং ‘ভারতের সংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দৈনিক জাগরণ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস কর্তৃক ইসরায়েলে চালানো হামলা ও জিম্মি আটকে রাখার ঘটনার তিনি বিরোধিতা করেন এবং সেসব কর্মকে বর্বরতা বলেই মনে করেন। তবে সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল যেভাবে গাজার সাধারণ জনগণের ওপর অবর্ণনীয় সহিংসতা চালাচ্ছে, তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোনিয়া গান্ধীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরে ইসরায়েলি অভিযান ও বোমা হামলায় ৫৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজারই শিশু। তিনি আরও বলেন, “হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন—গাজার কোনো স্থাপনাই রেহাই পায়নি। বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা উপত্যকা। মানবিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধুমাত্র সামরিক হামলাই চালাচ্ছে না, বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিহত করছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গাজা আজ একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগে পরিণত হয়েছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সামিল।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যখন মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তখন ইসরায়েল তাদের সেই প্রচেষ্টাও প্রত্যাখ্যান কিংবা বাধাগ্রস্ত করেছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক গভীর উদ্বেগ—“মানবতার প্রতিটি ধারণা ও নীতিকে পায়ে দলিত করে, সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনারা সাহায্যপ্রার্থী বেসামরিক জনগণের ওপর গুলি চালিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনার নিন্দা জানালেও, আন্তর্জাতিক মহল কার্যকর প্রতিরোধে ব্যর্থ।”
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরবতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকার এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি বা কোনো নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করেননি। এই নীরবতা সোনিয়া গান্ধীর মতে, ভারতের ঐতিহ্যিক মানবিক ও নৈতিক অবস্থানের বিপরীত, যা কেবল হতাশাজনক নয়, বরং একটি বৃহৎ জাতির নৈতিক পতনেরও ইঙ্গিত বহন করে।
গাজায় এই সংকটকে কেন্দ্র করে সোনিয়া গান্ধীর এই বিবৃতি ভারতীয় রাজনীতিতে যেমন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে—বিশেষ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারতের অবস্থান এখন কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
গাজায় রক্তপাত, শিশুদের করুণ মৃত্যু আর মানবতার চিৎকারে যখন বিশ্ব বিবেক প্রতিদিন ঝাঁকুনি খাচ্ছে, তখন মোদির নিরবতা এক ভয়াবহ রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—এই সময়ে কে সত্যিকারের মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে?
একটি বাংলাদেশ অনলাইন