ক্রিকেটার নাঈম হেনস্তা: উদ্বেগ জানাল বিসিবি, তদন্তের দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া শারীরিক হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে বোর্ড জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে বিসিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, একজন জাতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বোর্ড মনে করে, ঘটনাটির দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই বিসিবি নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বোর্ড যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

বিসিবি আরও জানায়, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষায় তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে বোর্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং ঘটনার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে, যখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়ে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের কাছে তাকে থামানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যায় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করে বলে তিনি দাবি করেন।

নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে প্রথমে আসামি হিসেবে সম্বোধন করা হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়। এরপর তাকে কলার ধরে টেনে নেওয়া, লাঠি দিয়ে আঘাত করা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিজের পরিচয় জানানোর পর পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় ক্ষোভ জানায় এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলে।

এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে এবং মামলার ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের সময় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। ক্ষমতার অপব্যবহার বা শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে বিসিবি, প্রশাসন এবং তদন্ত সংস্থাগুলোর দৃষ্টি রয়েছে পুরো ঘটনার অগ্রগতির দিকে। ক্রিকেটার নাঈম হাসানের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত