প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনার লক্ষ্যেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ফটিকছড়িতে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নতুন বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে এক আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সরোয়ার আলমগীর। সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরোয়ার আলমগীর বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ও সাহসী বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এই বাজেট জনগণের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় শিল্প খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরোয়ার আলমগীর দাবি করেন, এই বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার একটি রূপরেখা। তার ভাষায়, বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাজেট সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে দেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া আনন্দ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ও বাজার প্রদক্ষিণ করে বাসস্টেশন সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচি জুড়ে নেতাকর্মীরা নতুন বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে নানা স্লোগান দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা দেশের অর্থনৈতিক নীতিকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর নীতি এবং শিল্প সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক ও সমালোচনামূলক উভয় ধরনের মতামতই উঠে আসছে।
তবে সরোয়ার আলমগীরের মতে, বর্তমান বাজেট বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা তৈরি হবে।