প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আওয়ামী লীগের হামলা থেকে দেশের কেউই নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, একটি নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত রাজনৈতিক সংগঠন কীভাবে প্রকাশ্যে মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারে—এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “যারা অতীতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে তারা আর কোনোভাবে জনগণের ক্ষতির কারণ না হতে পারে।”
এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক দাবি করেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, জনগণ কোনো ধরনের ভয়ভীতির মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখতে চায় না এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
এর আগে একই দিনে চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নামাজ শেষে তারা স্থানীয় ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ে অংশ নেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বক্তব্য ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, যা মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল বলছে, এসব বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি। কারণ রাজনৈতিক বক্তব্য অনেক সময় জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সহিংসতা এড়াতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা।