প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করেছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্সে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাসিং ও কার্যকর ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি চাপে রাখে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে। সপ্তম মিনিটেই স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়, যদিও গোলটি আসে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ড্যামিয়ান বোবাদিয়ার আত্মঘাতী শটে। তবে গোলের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, যিনি দুর্দান্ত গতিতে আক্রমণ গড়ে ওয়েস্টন ম্যাককেনিকে পাস দেন এবং সেই আক্রমণ থেকেই বিপদ তৈরি হয়।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণ থামায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড ফোলারিন ব্যালোগুন একটি গোল করলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে তিন মিনিট পর আর কোনো ভুল হয়নি। পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ব্যালোগুন, আর তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও একটি দারুণ গোল উপহার দেন ব্যালোগুন। মালিক টিলম্যানের থ্রু বল ধরে গতিতে ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ফলে বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ৬৫ মিনিটে হুলিও এনসিসোর পাস থেকে একটি গোল শোধ করেন মৌরিসিও। এই গোল কিছুটা হলেও ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে।
তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দাপট থামানো যায়নি। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় জিওভান্নি রেইনা দূরপাল্লার এক দৃষ্টিনন্দন শটে গোল করে ম্যাচে সিলমোহর দেন। তার বাঁকানো শটটি রক্ষণ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে প্রবেশ করলে ৪-১ ব্যবধানে বড় জয় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে আলোচনায় আসেন ফোলারিন ব্যালোগুন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় মার্কিন খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে একাধিক গোল করার কীর্তি গড়েন। এর আগে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে বার্ট প্যাটেনড একই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
এই জয় যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু গ্রুপ পর্বে শক্ত অবস্থানই দেয়নি, বরং বিশ্বকাপে একটি শক্তিশালী বার্তাও দিয়েছে তারা। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের জন্য এটি ছিল হতাশাজনক শুরু, যেখানে রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
বিশ্বকাপ মিশনে এমন দাপুটে শুরু যুক্তরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, আর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি করেছে বড় স্বপ্নের ইঙ্গিত।