প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করে তা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
উপজেলার আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের সড়ককাটা এলাকায় ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাশে রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেবনাথ।
অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দেলওয়ার হোসেন দিপু (২৬) নামের এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দিপু উপজেলার আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে উত্তোলন করা বালু জব্দ করা হয়। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে নিলামের মাধ্যমে ওই বালু ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। পাশাপাশি একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং আশপাশের এলাকার মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। বালু উত্তোলনের ফলে মাটি ক্ষয়, রাস্তার স্থায়িত্ব কমে যাওয়া এবং আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার সতর্ক করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অভিযোগের সত্যতা পান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দেলওয়ার হোসেন দিপুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জব্দ করে নিলামের ব্যবস্থা করা হয়।
অভিযানের সময় আন্ধারিঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাবেদ আলী মন্ডল, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান এবং ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন এবং জনসাধারণের চলাচল ও পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নদী, খাল কিংবা জলাশয়ের আশপাশ থেকে নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করলে একদিকে যেমন নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে, অন্যদিকে স্থানীয় অবকাঠামোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বালু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হলেও এর উত্তোলনে নির্দিষ্ট নিয়ম ও পরিবেশগত বিষয়গুলো অনুসরণ করা জরুরি। পরিকল্পনাহীনভাবে বালু উত্তোলন করলে এলাকার ভূপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভূরুঙ্গামারীর এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে নিয়ম ভেঙে পরিবেশ ও জনস্বার্থের ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
ভূরুঙ্গামারীর এই অভিযান শুধু একটি জরিমানার ঘটনা নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি থাকলে স্থানীয় পরিবেশ ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।