বাংলাদেশিদের জন্য চালু হলো ভারতীয় পর্যটন ভিসা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
বাংলাদেশিদের জন্য চালু হলো ভারতীয় পর্যটন ভিসা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও চালু হয়েছে ভারতের পর্যটন (টুরিস্ট) ভিসা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারত ভ্রমণের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি এসেছে ভ্রমণপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের মধ্যে। নতুন নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এখন থেকে পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)-এ পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভিসা আবেদন কেন্দ্রেও এই কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় মেডিক্যাল ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ সময় পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ, পর্যটন ও পারিবারিক যোগাযোগে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হওয়ায় নতুন করে ভিসা কার্যক্রম শুরু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, আগ্রা, দার্জিলিং ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে বাংলাদেশি পর্যটকদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। নতুন করে টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় এসব ভ্রমণ আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে নতুন নিয়মে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদনকারীদের এখন সরাসরি ভিসা আবেদন কেন্দ্রে যাওয়ার আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় ছাড়া আইভ্যাকে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে ভারতের ভিসা আবেদনের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য এবং ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ফরমটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে।

এরপর শুরু হবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিংয়ের প্রক্রিয়া। আইভ্যাকে ফাইল জমা দেওয়ার জন্য আগের দিন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের স্লট নিতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আইভ্যাকের পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আবেদনপত্র আপলোড করতে হবে।

আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপলোড করা আবেদনপত্রের ফাইল যেন ৩০ দিনের বেশি পুরোনো না হয়। কোনো ধরনের পরিবর্তিত, সম্পাদিত বা ত্রুটিপূর্ণ ফাইল জমা দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অ্যাকাউন্ট তৈরি ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানা দিয়েই সাইন-আপ করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর ও ইমেইলে আলাদাভাবে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর আবেদনকারীকে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তীতে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। লগইনের পর আবারও ওটিপির মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে আবেদনকারী পুনরায় লগইন করে পরবর্তী দিনের জন্য নির্ধারিত সময় দেখতে পারবেন। প্রয়োজনে সেই সময় একবার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে। ভারত সরকার পর্যটন ভিসার জন্য সরাসরি কোনো ভিসা ফি গ্রহণ না করলেও ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) প্রক্রিয়াকরণ ফি পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। বৈধ পাসপোর্ট, যার মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে, তা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি পাসপোর্টের প্রথম কয়েকটি পাতার কপি এবং আগের পাসপোর্ট থাকলে সেগুলোও প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা নির্ধারিত মাপের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি, ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিলের কপি জমা দিতে হবে।

পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণও প্রয়োজন হবে। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত অর্থসহ সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট গ্রহণযোগ্য হবে।

ভিসা প্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষ হওয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহের তারিখ জানানো হবে। নির্ধারিত দিনে আবেদনকারীকে আইভ্যাক থেকে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যটন ভিসা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি দুই দেশের পর্যটন, ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসবে।

তবে ভিসা আবেদনকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক তথ্য প্রদান, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ নথিপত্রের কারণে আবেদন জটিলতায় পড়তে পারে।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নিয়ম মেনে আবেদনকারীরা আবারও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত