অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করল এনবিআর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করল এনবিআর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সহজ করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-ট্যাক্স পোর্টাল ব্যবহার করেই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

রোববার (২৮ জুন) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৮-এর উপধারা (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনবিআরের নতুন নির্দেশনার ফলে দেশের কর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এতদিন অনেক করদাতা সরাসরি কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে অনলাইন ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের এখন থেকে সংস্থাটির ই-ট্যাক্স পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান এবং রিটার্ন জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা যাবে।

তবে কিছু বিশেষ শ্রেণির করদাতাকে এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন।

শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতেই তারা অনলাইন রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন।

এনবিআর জানিয়েছে, এসব শ্রেণির করদাতারা চাইলে স্বেচ্ছায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারে তাদের কোনো বাধা থাকবে না, তবে এটি তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

নতুন ব্যবস্থায় কোনো করদাতা যদি ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা কারিগরি সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদন যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কর কমিশনার বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই করদাতাকে কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থায় ব্যর্থতার যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার ফলে করদাতাদের সময় ও খরচ কমবে। একই সঙ্গে কর অফিসে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে এবং কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও গত কয়েক বছর ধরে আয়কর সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে করদাতারা নিজেদের তথ্য সংরক্ষণ, পূর্ববর্তী রিটার্নের তথ্য পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যবস্থাপনা আরও সহজে করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থা চালু হলে কর প্রশাসনের কাজও আরও কার্যকর হবে। করদাতাদের তথ্য দ্রুত যাচাই, রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।

তবে নতুন ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যারা অনলাইন ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এনবিআরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন নিয়ম দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে সহজ ও জনবান্ধব করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর করদাতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-ট্যাক্স পোর্টালে নিবন্ধন সম্পন্ন করা এবং সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এনবিআর আশা করছে, অনলাইনভিত্তিক আয়কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি আধুনিক ও কার্যকর কর কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত