বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন ভিনিসিয়ুস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন ভিনিসিয়ুস

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । ক্রীড়া ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচারের লড়াইয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই উইঙ্গার জানিয়েছেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তার লড়াই কখনো থামবে না। ফুটবল মাঠে নিজের দক্ষতা দিয়ে যেমন কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করছেন, তেমনি সমাজে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে চান তিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। মরক্কোর বিপক্ষে দলের প্রথম ম্যাচে একমাত্র গোল করে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর হাইতির বিপক্ষেও গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত দুটি গোল করে তিনি উঠে আসেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়।

তার এই অসাধারণ ফর্ম শুধু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানে নতুন আশা তৈরি করেনি, ক্লাব পর্যায়েও তার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তার সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও ভিনিসিয়ুসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এমন একটি লড়াই, যা ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, মাঠের বাইরের এই অর্জনগুলো তার ফুটবল ক্যারিয়ারের সাফল্যের চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি আরও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পান।

ব্রাজিলিয়ান এই তারকার জীবনে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ইউরোপীয় ফুটবলে খেলতে গিয়ে একাধিকবার বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে স্পেনের মাঠে তাকে লক্ষ্য করে করা বিভিন্ন অপমানজনক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ় করেছে। তিনি মনে করেন, শুধু একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা তার দায়িত্ব।

ভিনিসিয়ুস বলেন, সমাজ থেকে বর্ণবাদ পুরোপুরি দূর করতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। পরিবর্তন ধীরে আসছে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একই ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি না হয়, সেটিই তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

নিজের ছোট ভাইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বয়স মাত্র সাত বছর। তিনি চান না ভবিষ্যতে তার ভাই বা অন্য কোনো শিশু বর্ণবাদের শিকার হোক। এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমানাধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা।

তিনি আরও জানান, মাঠে বড় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি তরুণ কৃষ্ণাঙ্গদের অনুপ্রাণিত করতে চান তিনি, যাদের অনেকের হয়তো নিজেদের কথা বলার সুযোগ বা শক্তিশালী কণ্ঠস্বর নেই। নিজের অবস্থানকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখেন না, বরং পরিবর্তনের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী ভিনিসিয়ুস। তার মতে, বর্তমান দলটি এমন একটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে, যারা ব্রাজিলকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দীর্ঘদিন ধরে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে। এই অপেক্ষা শেষ করতে দলের সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত বলে মনে করেন তিনি।

ভিনিসিয়ুস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিল দল অনেক শিক্ষা নিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা, ভুল এবং চ্যালেঞ্জগুলো দলকে আরও পরিণত করেছে। তার বিশ্বাস, বর্তমান দলটি শুধু প্রতিভাবান নয়, মানসিকভাবেও আগের চেয়ে শক্তিশালী।

কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলের পরিবর্তন নিয়েও সন্তুষ্ট ভিনিসিয়ুস। তার মতে, অভিজ্ঞ এই কোচ খেলোয়াড়দের স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দিয়েছেন এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন। আনচেলত্তির কাছ থেকে পাওয়া মানসিক স্বস্তি ও বিশ্বাস দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করেন তিনি।

ব্রাজিল দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ভিনিসিয়ুস। নেইমার, কাসেমিরো, মারকিনিওস, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্য বড় সম্পদ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এন্দ্রিক ও রায়ানের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলে নতুন উদ্যম তৈরি করছে বলেও জানান।

নিজের দুর্দান্ত ফর্মের পেছনে কঠোর পরিশ্রমকে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভিনিসিয়ুস। বিশ্বকাপের আগে থেকেই তিনি জানিয়েছিলেন, শারীরিক, কারিগরি ও মানসিকভাবে ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে রয়েছেন। পুরো মৌসুমে নিয়মিত অনুশীলন, ইনজুরি থেকে দূরে থাকা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ধারাবাহিক খেলা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

তিনি বলেন, পরিশ্রমের বিকল্প নেই। যত বেশি চেষ্টা করা যায়, সাফল্যের সম্ভাবনাও তত বাড়ে। তার মতে, ভাগ্যও তাদের পক্ষেই থাকে, যারা নিজেদের প্রস্তুত রাখে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেডে গোল করার বিষয়টি নিয়েও মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ভিনিসিয়ুস। তিনি স্বীকার করেন, সাধারণত হেডে গোল করা তার শক্তির জায়গা নয়। কোচের সঙ্গে এ নিয়ে তার একটি বাজি ছিল। ক্যারিয়ারে মাত্র কয়েকটি হেড গোল করা এই তারকা এবার সেই বাজি জেতার পুরস্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ফুটবল মাঠে গোল, গতি ও সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন আরও বড় এক পরিচয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। একজন সফল খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তিনি হয়ে উঠতে চান বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী কণ্ঠ। বিশ্বকাপের আলোয় তার পারফরম্যান্স যেমন কোটি মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি তার মানবিক অবস্থানও নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত