বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যপণ্য সরবরাহ এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কৃষিপণ্য, শিল্প কাঁচামাল, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা, বাণিজ্য বাধা দূর করার উপায় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা গেলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকলেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এই সম্পর্কের গতি পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে রেখে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে।

পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী বৈঠকে জানান, বাংলাদেশে চাল, ডাল, ছোলা, সার এবং ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানিতে আগ্রহী পাকিস্তান। এসব পণ্যের সরবরাহে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা আরও বাড়ানো যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রতি পাকিস্তানের বাজারে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের পাট আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি পণ্য। এই খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তানের (টিসিপি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এটি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।

এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলে খাদ্যপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামার সময়ে সরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে পাকিস্তান প্রতিনিধি দল জানায়, যেসব পণ্য সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব হবে না, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী তারা। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও আমদানি কাঠামো অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম দ্রুত সক্রিয় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময়, কৃষি খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং শিল্প খাতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি, শিল্প ও রপ্তানি খাতের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একইভাবে পাকিস্তানও খাদ্যপণ্য, কৃষি উৎপাদন ও শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। পারস্পরিক প্রয়োজন ও সক্ষমতার জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের জন্যই অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বর্তমানে সরবরাহ চেইন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং কাঁচামালের সহজলভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রবণতা বিশ্বজুড়েই দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার নতুন এই উদ্যোগকে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সফলতা নির্ভর করবে চুক্তি বাস্তবায়ন, বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরির ওপর।

দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তা বাস্তবায়িত হলে খাদ্যপণ্য সরবরাহ থেকে শুরু করে শিল্প ও রপ্তানি খাতে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি হতে পারে। অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত