প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অবৈধ পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জব্দ করা পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলমগীর হোসেন (৪২) ও সেলিম (৩৪)। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে হাটহাজারী পৌরসভার ওয়ালটন শোরুমের সামনে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী মডেল থানার একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুপন নাথ। অভিযানের সময় একটি মিনি ট্রাকে থাকা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ২৩৮টি শাড়ি এবং ২৪৬টি থ্রি-পিস। পুলিশের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা। পণ্যগুলো কীভাবে দেশে আনা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে বিভিন্ন ধরনের পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। এ ধরনের চোরাচালান বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হাটহাজারী মডেল থানার কর্মকর্তারা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভোররাতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি মিনি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি করলে সেখানে বিপুল পরিমাণ কাপড় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হাসান। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কপথ বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মাঝে মাঝে এসব পথে অবৈধ পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব রুটে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
অবৈধভাবে আমদানি করা পণ্য দেশের বাজার ব্যবস্থায় নানা ধরনের প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পোশাক ও কাপড়ের মতো পণ্য কম দামে বাজারে বিক্রি হলে স্থানীয় উৎপাদক ও বৈধ আমদানিকারকরা প্রতিযোগিতায় সমস্যার মুখে পড়েন। একই সঙ্গে এসব পণ্যের উৎস, মান ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন থাকে।
চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু অভিযান নয়, এর সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনেক ক্ষেত্রে পরিবহনকারী ব্যক্তিরা শুধু একটি বড় চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই পণ্যের উৎস, সরবরাহকারী এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
হাটহাজারীর এই ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্য ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ও আঞ্চলিক সড়কে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
হাটহাজারীতে প্রায় ৪২ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটকের ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে অবৈধ বাণিজ্যের বিষয়টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দেশের অর্থনীতি ও বৈধ ব্যবসা সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।